ফুটবলে নতুন চমক ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’, যেভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
ফুটবল মাঠে হলুদ ও লাল কার্ড দেখানোর প্রচলিত পদ্ধতিতে আসছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। রেফারির হাতে কাগজের কার্ডের পরিবর্তে এবার দেখা গেছে মুঠোফোনের মতো দেখতে একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র। উরুগুয়ের একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এই প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সতর্ক করা, মাঠ থেকে বহিষ্কার এবং ম্যাচের বিভিন্ন ঘটনা নথিবদ্ধ করার কাজ আরও সহজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
উরুগুয়ের ম্যাচে প্রথম ব্যবহার
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উরুগুয়ে কাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয় ন্যাসিওনাল ও রেনতিস্তাস। ম্যাচটিতে ন্যাসিওনাল ৩-০ গোলে জয় পায়। তবে খেলার ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনায় আসে রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলার ব্যবহার করা নতুন ইলেকট্রনিক কার্ড।
ম্যাচের ১২ মিনিটে রেনতিস্তাসের হুয়ান পাবলো প্লাদাকে হলুদ কার্ড দেখানোর সময় প্রথমবার যন্ত্রটি ব্যবহার করেন তিনি। পরে ম্যাচের শেষ মিনিটে ন্যাসিওনালের নাহুয়েল গেলোসকে লাল কার্ড দেখাতেও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
প্রচলিত কার্ডের বদলে রেফারির হাতে এমন একটি যন্ত্র দেখে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় এটি নতুন একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ।
কীভাবে কাজ করে ইলেকট্রনিক কার্ড?
নতুন এই যন্ত্রটি দেখতে অনেকটা মুঠোফোনের মতো। এতে রয়েছে দুটি বোতাম। একটি বোতামে চাপ দিলে পর্দায় হলুদ রং দেখা যায়। অন্য বোতামে চাপ দিলে পর্দা লাল হয়ে যায়। অর্থাৎ, প্রচলিত হলুদ ও লাল কার্ডের সংকেত ডিজিটাল পর্দার মাধ্যমে প্রদর্শন করা সম্ভব।
তবে যন্ত্রটির কাজ শুধু কার্ডের রং দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোন খেলোয়াড়কে কখন সতর্ক করা হয়েছে, কাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে—এসব তথ্যও এতে সংরক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি গোলের তথ্য এবং খেলোয়াড় পরিবর্তনের ঘটনাও নথিবদ্ধ করার সুবিধা রয়েছে।
ফলে ম্যাচ চলাকালে বিভিন্ন ঘটনা লিখে রাখার ক্ষেত্রে রেফারিদের কাজ সহজ হতে পারে। ভবিষ্যতে এই তথ্য সরাসরি ফুটবল ফেডারেশনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরির কাজও দ্রুত করা সম্ভব হবে।
কেন এই প্রযুক্তি আনা হচ্ছে?
সাধারণত একটি ম্যাচে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানোর পর সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম, ঘটনার সময় এবং শাস্তির কারণ নথিবদ্ধ করতে হয়। ম্যাচ শেষে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার দায়িত্বও রেফারিদের ওপর থাকে।
এই প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্যস্ত ম্যাচে একাধিক ঘটনা সামলানোর পাশাপাশি হাতে তথ্য লিখে রাখাও সময়সাপেক্ষ। ইলেকট্রনিক কার্ডের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে এসব কাজ আরও গোছানোভাবে করা যেতে পারে।
প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে উরুগুয়ের প্রতিষ্ঠান ‘রেফে’। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাউরো সাকো জানিয়েছেন, ফুটবলের যেসব কাজ এখনো পুরোনো পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য।
পরীক্ষায় ধরা পড়েছে বড় সীমাবদ্ধতা
নতুন প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা থাকলেও প্রথম পরীক্ষাতেই কিছু সমস্যা সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পর্দার দৃশ্যমানতা। দূর থেকে কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় ইলেকট্রনিক কার্ডের রং স্পষ্টভাবে বোঝা কঠিন হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেফেনসোর স্পোর্তিং ও প্লাসা কোলোনিয়ার ম্যাচেও প্রযুক্তিটি পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সূর্যের আলোয় পর্দা স্পষ্ট দেখা না যাওয়ার আশঙ্কায় সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
এই সমস্যা সমাধানে যন্ত্রটির চারপাশে এলইডি বাতি যুক্ত করার কথা ভাবছেন নির্মাতারা। এতে মাঠের বিভিন্ন অবস্থায় কার্ডের সংকেত আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফিফার অনুমোদন পাবে কি?
প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে এটি গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে বলে আশা করছেন নির্মাতারা। তবে এখনো এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলার মতে, যন্ত্রটি ব্যবহার করা সহজ হলেও প্রচলিত কার্ড দেখানোর দৃশ্যের নাটকীয়তা এতে কিছুটা কমে যায়। দর্শকদের কাছে হলুদ বা লাল কার্ড তুলে ধরার পরিচিত দৃশ্য ফুটবলের অংশ হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে।
সব মিলিয়ে, ইলেকট্রনিক কার্ড ফুটবলের প্রশাসনিক কার্যক্রম আধুনিক করার একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। তবে মাঠে স্পষ্ট দৃশ্যমানতা, ব্যবহারিক সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত হলুদ ও লাল কার্ডের বিকল্প হিসেবে এটি চালু হচ্ছে না।




















