প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার: আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৩০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পদ রক্ষা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রামরুর ‘সোনার মানুষ সম্মিলন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রবাসীদের সম্পদ সুরক্ষায় বিশেষ আদালতের উদ্যোগ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশে থাকা সম্পদ ও সম্পত্তিসংক্রান্ত আইনি অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার।
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বিভিন্ন সময় তাঁদের সম্পদ ও সম্পত্তি নিয়ে নানা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ বিষয়ে প্রবাসীরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, তা সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
২৪ ঘণ্টা আইনি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা
প্রবাসীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে তাঁদের ২৪ ঘণ্টা আইনি সেবা দেওয়া হবে। এ উদ্যোগ অচিরেই বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই সেবা চালু হলে প্রবাসীরা দেশের বাইরে অবস্থান করেও আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে সেবাটি কীভাবে পরিচালিত হবে, কোন প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে এবং কোন কোন বিষয়ে সহায়তা দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি মন্ত্রী।
অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রম রপ্তানি
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্সযোদ্ধারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সোপান। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো শ্রম রপ্তানি।
তিনি আরও বলেন, অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকেরা তাঁদের শ্রমের মূল্য কম পাচ্ছেন। ফলে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ, পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তাঁদের অধিকার ও সম্পদ সুরক্ষার পাশাপাশি বিদেশে শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আদালত গঠন এবং ২৪ ঘণ্টা আইনি সেবা চালুর বিষয়ে উদ্যোগের কথা জানানো হলেও এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।






















