পুলিশ পরিদর্শক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ২ মামলা
- আপডেট সময় : ০১:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তার স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানে পুলিশ পরিদর্শকের নামে ৯২ লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং তার স্ত্রীর নামে ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মামলায় আসামি করা হয়েছে পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞাকে। তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৯০ লাখ ৯১ হাজার ২৬৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিবৃতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে ফখরুদ্দীন ভূঞার নামে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯১১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিপরীতে, তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৬৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫৭ টাকা।
এ হিসাবে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ টাকা। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
স্ত্রীর নামেও ৮৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
দ্বিতীয় মামলায় পুলিশ পরিদর্শক ফখরুদ্দীন ভূঞার স্ত্রী জাহানারা খানমকে আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে সহায়তা করার অভিযোগে ফখরুদ্দীন ভূঞাকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহানারা খানমের নামে ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। তার সম্পদের বৈধ উৎস নিয়ে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ফখরুদ্দীন ভূঞা নিজের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পদের হিসাব
দুটি মামলার অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে। মামলাগুলোর পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।




















