পশ্চিমবঙ্গের ভোটযুদ্ধে কে দখল করবে সিংহাসন?
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
টানটান উত্তেজনা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এবার ২৯৪টি আসনের এই নির্বাচনে দুই দফায় ভোট নেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ১৫২টি আসনের জন্য ভোট দিচ্ছেন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার।
আপসঃ সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন গণতন্ত্রের এই উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
আপসঃ প্রথম দফায় যেসব জেলায় ভোট হচ্ছে সেগুলো হলো দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান। দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে।
আপসঃ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশেও নেয়া হয়েছে কড়াকড়ি ব্যবস্থা।
আপসঃ বিভিন্ন জনমত জরিপে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে তীব্র হবে, তা স্পষ্ট। কিছু জরিপে তৃণমূলের ভোট ৪১–৪৩ শতাংশ এবং বিজেপি-র ভোট ৩৪–৪১ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আপসঃ মুখ্যমন্ত্রী পদে পছন্দের নিরিখেও এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৬–৪৮ শতাংশ মানুষ তাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থন ৩৩–৩৫ শতাংশের মধ্যে।
উত্তেজনায় থমথমে বাতাস, কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আর কোটি মানুষের প্রত্যাশা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অভূতপূর্ব নাট্যমঞ্চ। কে জিতবে, কে হারবে—তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, কার হাতে গড়বে আগামী দিনের পশ্চিমবঙ্গ। এখন সব অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন ব্যালটের নিঃশব্দ শক্তি বিস্ফোরিত হয়ে ঘোষণা করবে চূড়ান্ত রায়—আর ইতিহাসে লেখা হবে নতুন এক অধ্যায়, হয়তো বিস্ময়ের, হয়তো পালাবদলের।
























