০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের পরিবেশ রক্ষা, বনভূমি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে থাকলে চলবে না, দেশের মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের বীজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ মাতৃগাছ বা মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, রোপণ করা চারার পরিচর্যা এবং বনভূমি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ ও বন রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ তত সহজ হবে। এ জন্য পরিবেশ ও বন রক্ষায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের জন্য পৃথক পরিকল্পনা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়।

এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগ এবং নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের অবনতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখা, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম একটি বাসযোগ্য দেশে জীবনযাপন করতে পারে।

দায়িত্বের বাইরে গিয়েও কাজ করতে হবে কর্মকর্তাদের

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের জন্য অতিরিক্ত কিছু করার মানসিকতা থাকতে হবে। দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনার ডিউটি থেকে একটু বেশি কাজ করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা এখন দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থেমে গেলে হবে না, দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি ৯টা-৫টা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পরিবেশের উন্নয়নে পরিবর্তন আনতে হলে প্রত্যেককে নিজের সামর্থ্য ও দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে। শুধু নিয়মিত দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের জন্য আরও ইতিবাচক অবদান রাখার চেষ্টা করতে হবে।

আগামী ছয় মাসে মাদার ট্রি চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব মাতৃগাছ বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে গাছগুলো সংরক্ষণ করা গেলে বন পুনরুজ্জীবন ও নতুন চারা উৎপাদনের উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।

এ ছাড়া রোপণ করা চারাগুলো বেঁচে আছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে তদারকি করা গেলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করারও নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে মানুষের প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

ছাদবাগান ও স্কুলবাগান তৈরিতে উৎসাহ

পরিবেশবান্ধব নগর ও বসতি গড়ে তুলতে ছাদবাগান, স্কুলবাগান এবং বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, মানুষের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্থানে সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাগান তৈরি করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। পাশাপাশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে ছাদবাগান গড়ে তোলার মাধ্যমে নগর এলাকায় সবুজের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা

দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশের পরিবেশ রক্ষা, বনভূমি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে থাকলে চলবে না, দেশের মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের বীজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ মাতৃগাছ বা মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, রোপণ করা চারার পরিচর্যা এবং বনভূমি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ ও বন রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ তত সহজ হবে। এ জন্য পরিবেশ ও বন রক্ষায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের জন্য পৃথক পরিকল্পনা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়।

এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগ এবং নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের অবনতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখা, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম একটি বাসযোগ্য দেশে জীবনযাপন করতে পারে।

দায়িত্বের বাইরে গিয়েও কাজ করতে হবে কর্মকর্তাদের

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের জন্য অতিরিক্ত কিছু করার মানসিকতা থাকতে হবে। দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনার ডিউটি থেকে একটু বেশি কাজ করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা এখন দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থেমে গেলে হবে না, দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি ৯টা-৫টা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের পরিবেশের উন্নয়নে পরিবর্তন আনতে হলে প্রত্যেককে নিজের সামর্থ্য ও দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে। শুধু নিয়মিত দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের জন্য আরও ইতিবাচক অবদান রাখার চেষ্টা করতে হবে।

আগামী ছয় মাসে মাদার ট্রি চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব মাতৃগাছ বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে গাছগুলো সংরক্ষণ করা গেলে বন পুনরুজ্জীবন ও নতুন চারা উৎপাদনের উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।

এ ছাড়া রোপণ করা চারাগুলো বেঁচে আছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে তদারকি করা গেলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করারও নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে মানুষের প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

ছাদবাগান ও স্কুলবাগান তৈরিতে উৎসাহ

পরিবেশবান্ধব নগর ও বসতি গড়ে তুলতে ছাদবাগান, স্কুলবাগান এবং বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, মানুষের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্থানে সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাগান তৈরি করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। পাশাপাশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে ছাদবাগান গড়ে তোলার মাধ্যমে নগর এলাকায় সবুজের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা

দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।