নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, পরিচয় শনাক্ত ৯ জনের
- আপডেট সময় : ১২:২৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন। এ ছাড়া বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন।
নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের তাছফিয়া খাতুন (৮) এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০)।
এ ছাড়া জাজিরার বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫) ও জহুর উদ্দিনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
নিহত বাসচালকের নাম সোহেল রানা (৪০)। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
ওভারটেক করতে গিয়ে সংঘর্ষের ধারণা পুলিশের
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন জানান, আরপি পরিবহনের বাসটি বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, পঞ্চগড় থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিল।
ভোরে সরকারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে যানবাহন দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দ্রুতগতিতে চলা বাসটি অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
এসআই শামীম হোসেন বলেন, ট্রাকটি মহাসড়কের বাম পাশের লেন দিয়ে চলছিল। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী ছিল বাসে
দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, বাসটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ছিলেন। সব আসন পূর্ণ থাকায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছিল। যাত্রীদের ভিড়ে বাসের ভেতরে চলাচলের জায়গাও ছিল না।
তিনি বলেন, বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। চালক মাঝেমধ্যে জোরে ব্রেক করছিলেন। এতে যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে পড়ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের নাটোর সদর হাসপাতাল, বড়াইগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজন মারা যান।
নাটোরের পুলিশ সুপার শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।
সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোরের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এবং পুলিশ সুপার শরীফুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।






















