০১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘সব লোকে কয় কি জাত সংসারে, লালন বলে, জাতের কী রূপ দেখলাম না এ নজরে’—মানবতাবাদী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের এই কালজয়ী গানের বাণীকে ধারণ করে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে তাঁর ১৩৬তম তিরোধান দিবস। জাতপাত, ধর্মীয় বিভেদ ও সামাজিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মরমি সংগীত গান ও নৃত্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির বহিরাঙ্গনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি। সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন জেলা কালচারাল অফিসার এস এম টি কামরান হাসান।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু এবং কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান ওয়াসিম।

আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লা মহানগর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মশিউর রহমান ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল জাতপাতের ঊর্ধ্বে মানুষ লালনের দর্শন
লালন সাঁইয়ের গান শুধু সংগীতের অনুষঙ্গ নয় এতে রয়েছে মানুষের আত্মপরিচয়, মানবিক মর্যাদা সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গভীর দর্শন। জাতপাত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির বিরুদ্ধে তাঁর গান যুগ যুগ ধরে মানুষকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছে।

‘সব লোকে কয় কি জাত সংসারে’ গানে লালন প্রচলিত জাতপরিচয়ের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। মানুষের বাহ্যিক পরিচয়ের পরিবর্তে তার অন্তর্নিহিত সত্তা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার যে শিক্ষা তাঁর গানে উঠে এসেছে, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক সমাজে ধর্ম, বর্ণ ও নানা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন যখন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে, তখন লালনের দর্শন সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর গান মানুষকে আত্মঅনুসন্ধানের পাশাপাশি অন্য মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন তাই কেবল একজন সাধককে স্মরণ করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; তাঁর জীবনদর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
মরমি গানে মুগ্ধ দর্শক আলোচনা সভার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় লালন সাঁইয়ের মরমি গান। কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। লালনের গানের সুর, ভাব ও দর্শনকে কেন্দ্র করে সাজানো সাংস্কৃতিক পর্বটি উপস্থিত দর্শকদের কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের গান ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। মরমি সংগীতের আবেদন ও নৃত্যের নান্দনিক উপস্থাপনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সাধক-ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলার লোকসংগীতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাউলগান। মানুষের জীবন, প্রেম, আত্মসন্ধান ও মানবিকতার কথা এ ধারার গানে গভীরভাবে উঠে এসেছে। লালন সাঁইয়ের সৃষ্টিতে এসব ভাবনা পেয়েছে স্বতন্ত্র দার্শনিক মাত্রা। তাঁর গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের অন্তর্জগৎকে আলোড়িত করার পাশাপাশি সামাজিক বিভেদের বিপরীতে মানবিক সংযোগের বার্তা বহন করে চলেছে।

নতুন প্রজন্মের কাছে লালনের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার মরমি সাধনার ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। সংগীত ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে।

লালনের দর্শনের অন্যতম তাৎপর্য হলো মানুষের পরিচয়কে সংকীর্ণ সামাজিক বিভাজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা। ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বন্ধন গড়ে তোলার যে আহ্বান তাঁর গানে উচ্চারিত হয়েছে, তা সমকালীন সমাজেও গুরুত্বপূর্ণ।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণানুষ্ঠানে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে লালন সাঁইয়ের মানবিক দর্শন ও মরমি সংগীতের আবেদন নতুন করে সামনে আসে। তাঁর গান ও চিন্তার চর্চা অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং অসাম্প্রদায়িক মানবিক চেতনার বিকাশ আরও সমৃদ্ধ হবে এমন প্রত্যাশাই অনুষ্ঠানের মূল তাৎপর্যকে তুলে ধরে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লায় লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত

আপডেট সময় : ১২:৩৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘সব লোকে কয় কি জাত সংসারে, লালন বলে, জাতের কী রূপ দেখলাম না এ নজরে’—মানবতাবাদী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের এই কালজয়ী গানের বাণীকে ধারণ করে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে তাঁর ১৩৬তম তিরোধান দিবস। জাতপাত, ধর্মীয় বিভেদ ও সামাজিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মরমি সংগীত গান ও নৃত্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির বহিরাঙ্গনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি। সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন জেলা কালচারাল অফিসার এস এম টি কামরান হাসান।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু এবং কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান ওয়াসিম।

আলোচনায় অংশ নেন কুমিল্লা মহানগর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মশিউর রহমান ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল জাতপাতের ঊর্ধ্বে মানুষ লালনের দর্শন
লালন সাঁইয়ের গান শুধু সংগীতের অনুষঙ্গ নয় এতে রয়েছে মানুষের আত্মপরিচয়, মানবিক মর্যাদা সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গভীর দর্শন। জাতপাত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির বিরুদ্ধে তাঁর গান যুগ যুগ ধরে মানুষকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছে।

‘সব লোকে কয় কি জাত সংসারে’ গানে লালন প্রচলিত জাতপরিচয়ের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। মানুষের বাহ্যিক পরিচয়ের পরিবর্তে তার অন্তর্নিহিত সত্তা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার যে শিক্ষা তাঁর গানে উঠে এসেছে, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক সমাজে ধর্ম, বর্ণ ও নানা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন যখন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে, তখন লালনের দর্শন সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর গান মানুষকে আত্মঅনুসন্ধানের পাশাপাশি অন্য মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন তাই কেবল একজন সাধককে স্মরণ করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; তাঁর জীবনদর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
মরমি গানে মুগ্ধ দর্শক আলোচনা সভার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় লালন সাঁইয়ের মরমি গান। কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। লালনের গানের সুর, ভাব ও দর্শনকে কেন্দ্র করে সাজানো সাংস্কৃতিক পর্বটি উপস্থিত দর্শকদের কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের গান ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। মরমি সংগীতের আবেদন ও নৃত্যের নান্দনিক উপস্থাপনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সাধক-ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলার লোকসংগীতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাউলগান। মানুষের জীবন, প্রেম, আত্মসন্ধান ও মানবিকতার কথা এ ধারার গানে গভীরভাবে উঠে এসেছে। লালন সাঁইয়ের সৃষ্টিতে এসব ভাবনা পেয়েছে স্বতন্ত্র দার্শনিক মাত্রা। তাঁর গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের অন্তর্জগৎকে আলোড়িত করার পাশাপাশি সামাজিক বিভেদের বিপরীতে মানবিক সংযোগের বার্তা বহন করে চলেছে।

নতুন প্রজন্মের কাছে লালনের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার মরমি সাধনার ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। সংগীত ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে।

লালনের দর্শনের অন্যতম তাৎপর্য হলো মানুষের পরিচয়কে সংকীর্ণ সামাজিক বিভাজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা। ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বন্ধন গড়ে তোলার যে আহ্বান তাঁর গানে উচ্চারিত হয়েছে, তা সমকালীন সমাজেও গুরুত্বপূর্ণ।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণানুষ্ঠানে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে লালন সাঁইয়ের মানবিক দর্শন ও মরমি সংগীতের আবেদন নতুন করে সামনে আসে। তাঁর গান ও চিন্তার চর্চা অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং অসাম্প্রদায়িক মানবিক চেতনার বিকাশ আরও সমৃদ্ধ হবে এমন প্রত্যাশাই অনুষ্ঠানের মূল তাৎপর্যকে তুলে ধরে।