একই মঞ্চে একই পরিবারের ৩ সদস্যের ভাষণ, বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাস
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একই বিশ্বমঞ্চে বাবা, মা ও ছেলে—একই পরিবারের তিন সদস্যের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেওয়ার বিরল ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণের মধ্য দিয়ে পরিবারের তিন সদস্যের এই ধারাবাহিকতা পূর্ণ হয়েছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাধারণ পরিষদ হলে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পায়।
প্রথম সদস্য জিয়াউর রহমান
একই পরিবারের এই ধারাবাহিকতার প্রথম সদস্য ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেন। জাতিসংঘের সরকারি নথিতেও ওই দিনের অধিবেশনে জিয়াউর রহমানের বক্তব্যের তথ্য রয়েছে।
তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
১৩ বছর পর জাতিসংঘে খালেদা জিয়া
এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অধিবেশন ও অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া মোট পাঁচবার বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশন চলাকালে দুটি পৃথক সভা উল্লেখযোগ্য।
তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান
বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাষণ দিলেন তাঁদের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পারিবারিক এই স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। একইভাবে তিনিও দেশের জনগণের স্বার্থ এবং শান্তিপূর্ণ বিশ্বসমাজের প্রত্যাশা নিয়ে জাতিসংঘের এই মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন।
বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মানবিক সংকট ও রোহিঙ্গা ইস্যুও গুরুত্ব পায়।
বাংলায় দেওয়া এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে একই পরিবারের তিন সদস্যের উপস্থিতির একটি ব্যতিক্রমী ধারাবাহিকতা সম্পন্ন হলো। জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ভাষণ থেকে খালেদা জিয়ার একাধিক বক্তব্য পেরিয়ে ২০২৬ সালে তারেক রহমানের ভাষণ সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে।




















