০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, দিলীপ আগরওয়ালা ১ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৭৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিল সিআইডি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির জন্য দুপুর ৩টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বনানী থেকে গ্রেপ্তার হন দিলীপ আগরওয়ালা

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মামলাটি করা হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে রাজধানীর গুলশান থানায়। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গুলশান অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কথিত অপরাধ সংঘটিত হয়।

বৈধ আমদানি ও স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটায় বড় ব্যবধান

সিআইডির অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যাংক হিসাব, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধভাবে ঋণপত্র বা এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সার স্বর্ণবার, স্বর্ণালংকার, লুজ ডায়মন্ড ও অন্যান্য অলংকার আমদানি করেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে মোট ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার স্বর্ণ ও ডায়মন্ড কেনা, বিনিময় বা রূপান্তর করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির অভিযোগ, স্থানীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা কেনার ক্ষেত্রে সেগুলোর বিক্রেতা কিংবা মূল উৎস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সিআইডির দাবি, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে ব্যবহার করে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড কেনাবেচা করেছেন। এভাবে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দিনই তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

পরবর্তী সময়ে তাকে বিভিন্ন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তার আইনজীবীরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

বর্তমানে স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত সংস্থা। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, দিলীপ আগরওয়ালা ১ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিল সিআইডি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির জন্য দুপুর ৩টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বনানী থেকে গ্রেপ্তার হন দিলীপ আগরওয়ালা

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মামলাটি করা হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে রাজধানীর গুলশান থানায়। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গুলশান অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কথিত অপরাধ সংঘটিত হয়।

বৈধ আমদানি ও স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটায় বড় ব্যবধান

সিআইডির অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যাংক হিসাব, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধভাবে ঋণপত্র বা এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সার স্বর্ণবার, স্বর্ণালংকার, লুজ ডায়মন্ড ও অন্যান্য অলংকার আমদানি করেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে মোট ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার স্বর্ণ ও ডায়মন্ড কেনা, বিনিময় বা রূপান্তর করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির অভিযোগ, স্থানীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা কেনার ক্ষেত্রে সেগুলোর বিক্রেতা কিংবা মূল উৎস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সিআইডির দাবি, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে ব্যবহার করে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড কেনাবেচা করেছেন। এভাবে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দিনই তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

পরবর্তী সময়ে তাকে বিভিন্ন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তার আইনজীবীরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

বর্তমানে স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত সংস্থা। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।