২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণপ্রধান হবে বাংলাদেশ, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
২০৫১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবীণপ্রধান দেশে পরিণত হতে পারে। সে সময় তরুণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বেশি হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সামনে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। বর্তমানে দেশের বড় একটি অংশ কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে না পারলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে।
তাই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
প্রবীণদের সুরক্ষায় কেয়ার ইকোনমির গুরুত্ব
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন তুলে ধরে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে প্রবীণপ্রধান সমাজের চাহিদা মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের সেবা নিশ্চিত করতে কেয়ার ইকোনমি বা পরিচর্যাভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ জরুরি। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর গিগ ইকোনমিতে কাজ করা কর্মীদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে।
তাঁর মতে, ভবিষ্যতে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা এবং সামাজিক নিরাপত্তার চাহিদাও বাড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন।
কেয়ার ইকোনমি সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শিশু, প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল তৈরি করছে সরকার।
এ লক্ষ্যে কেয়ার ইকোনমির প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং পরিচর্যাভিত্তিক অর্থনীতির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ চালুর কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সেবাপ্রত্যাশী জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন মানুষের সেবার মান বাড়বে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা পরিকল্পনার তাগিদ
অন্যদিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, ২০৫০ সালের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বজনীন এবং বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা ও মানসম্মত চাইল্ড কেয়ার বা শিশুযত্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। এজন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য রয়েছে। এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে।
তাঁরা আরও বলেন, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণদের জন্য টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু সমাজকল্যাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।


























