১১ মাস পর অবশেষে সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি

0

আদালতে অভিযোগপত্র দেয়ার ১১ মাস পর অবশেষে শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি। এদিন ৩ আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করে আসামীপক্ষ। তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ- বিচারকে দীর্ঘায়িত করতেই এই আবেদন। তাছাড়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করার পর আসামীদের এই আবেদনের আইনিভিত্তি নেই। প্রথম দিনের আংশিক শুনানি শেষে ২ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস।

কথিত ছিনতাইয়ের মোড়কে পারিবারিক ষড়যন্ত্র ও হিংস্রতার নির্মম ঘটনা সগিরা মোর্শেদ হত্যা। ৩০ বছর আগে ঘটে যাওয়া ওই হত্যার রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই। তদন্তে বেরিয়ে আসে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সংগঠিত ওই হত্যায় জড়িত ছিলেন সগিরা মোর্শেদের ভাসুর হাসান আলী ও তাঁর স্ত্রী এবং শ্যালকসহ ৪ জন।

গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ওই চারজনকে আসামি করে এক হাজার ৩০৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। গেল ৯ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর মাঝে আসামীপক্ষের বার বার সময় প্রার্থনার ফলে দফায় দফায় পেছাতে থাকে অভিযোগ গঠনের শুনানি।

বৃহস্পতিবার অভিযোগ গঠনের পূর্ব নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির করা হয় আসামীদের। এদিনও আসামী মারুফ রেজার আইনজীবী পরিবর্তন হওয়ায় নতুন করে সময় চেয়ে আবেদন করে আসামীপক্ষ। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই অভিযোগপত্রে আসামী করা হয়েছে– এমন যুক্তি তুলে ধরে ৩ আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদনও করে আসামীপক্ষ।

তবে ১৬৪ ধারায় আসামী অভিযোগ স্বীকার করেছে এবং অনুশোচনা প্রকাশ করেছে– এমন তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, বিচারকে কৌশলে বিলম্বিত করতেই এই আবেদন।

করোনার কারণে বার বার পিছিয়ে পড়া এই মামলাটি দ্রুত শেষ করতে সব প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।

আইনজীবীরা জানান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান- বিআইডিএসের গবেষক সগিরা মোর্শেদ হত্যার আলোচিত এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশও রয়েছে উচ্চ আদালতের।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন