হারিয়ে যেতে বসেছে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস ও গুড়

0

হারিয়ে যেতে বসেছে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস ও গুড়। আগের মতো খেজুর গাছ না থাকায় এখন চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে রস ও গুড়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে বেশি লাভের আশায় চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরি করছে। খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং ভেজাল ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

শীতকালে মাদারীপুরে খেজুর রস ও গুড়ের ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। বাড়িতে নিমন্ত্রন করে আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন পিঠা-পায়েস খাওয়ানোর ধুম পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই তাফালে রস ঢেলে আগুনের আঁচে ধীরে ধীরে জাল দেয়া হয়। প্রথমে সোনালি, পরে কমলা, অবশেষে রক্তিম রঙ হয়। এরপর, সেখান থেকে নানা নামে গুড় তৈরি হয়। পরিচিতি পায় ঝোলা, বাটালি, খানডা, নলের গুড়।

তবে, খাঁটি গুড় পাওয়া নিয়ে এখন শংকিত থাকে বেশিরভাগ ক্রেতা। আগের মতো গাছ না থাকায় রস সংগ্রহ বাদ দিয়েছে অনেকেই। ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যাপক ব্যবহার খেজুর গাছের বিলুপ্তির কারন হিসেবে জানায় সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া, মেহগনি ও রেন্ডি গাছের জন্য রস না দিয়ে অল্পদিনেই খেজুর গাছ মরে যায় বলে মনে করে কেউ কেউ।

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে জেলায় খেজুর গাছের জমির পরিমান ছিল ৫০ হেক্টর। গাছের সংখ্যা ছিল ৬৪৮০০। গাছি ছিলেন ৫১৫ জন। গুড় উৎপাদন হয়েছে ২৪০ মেট্রক টন। গত পাঁচ বছরে সবই অর্ধেকে নেমে গেছে। গুড়ের মান ধরে রাখতে প্রস্তুতকারীদের সাথে আলোচনা হয়েছে। গাছের সংখ্যা বাড়াতে হর্টিকালচার সেন্টারকে ১০ হাজার চারার চাহিদা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এলাকাভিত্তিক খেজুর গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করে সচেতন মহল।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন