০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং এর ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘে চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সক্ষমতা নিয়েই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকার উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে বাংলাদেশের ঝুঁকি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের মধ্য দিয়ে শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিলিত হয়েছে। ফলে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রে বিলীন হতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

জলবায়ু সহনশীলতায় বাংলাদেশের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করেছে এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প আধুনিকায়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে।

এ ছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গ্রিন গ্রোথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্পায়ন ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংকটপূর্ণ ইকোসিস্টেম রক্ষায়ও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বৈঠকে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলো হলো—

১. দ্রুত ও ন্যায্যভাবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে।

২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য যথাযথ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় সহজ ও কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

আপডেট সময় : ১২:০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং এর ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘে চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সক্ষমতা নিয়েই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকার উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে বাংলাদেশের ঝুঁকি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের মধ্য দিয়ে শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিলিত হয়েছে। ফলে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রে বিলীন হতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

জলবায়ু সহনশীলতায় বাংলাদেশের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করেছে এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প আধুনিকায়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে।

এ ছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গ্রিন গ্রোথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্পায়ন ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংকটপূর্ণ ইকোসিস্টেম রক্ষায়ও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বৈঠকে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলো হলো—

১. দ্রুত ও ন্যায্যভাবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে।

২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য যথাযথ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় সহজ ও কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।