০৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সব নাগরিকের একমাত্র পরিচয় হবে বাংলাদেশি। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যাতে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম-বর্ণের ভিন্নতা ছাপিয়ে ঐক্যের আহ্বান

মাহদী আমিন বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে সবাই নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সমান মর্যাদায় অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা। মহালয়ার এই তাৎপর্য ধারণ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি আধুনিক, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহদী আমিন শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে সমাজের সব ধরনের প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

পূজামণ্ডপে বরাদ্দ ও ছুটি বৃদ্ধি

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রত্যাশা, দুর্গোৎসবের আনন্দ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়বে। এই উৎসব যেন সবার মধ্যে আনন্দ, শান্তি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির একটি দৃঢ় বন্ধন। সমাজের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’

বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের অগ্রগতির চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক জনকল্যাণকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণেই সরকারের বক্তব্য, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মহালয়ার শুভ সূচনা সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

শনিবার সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে মাহদী আমিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতারা। পরে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা ও ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: বাসস

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

আপডেট সময় : ১২:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সব নাগরিকের একমাত্র পরিচয় হবে বাংলাদেশি। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যাতে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম-বর্ণের ভিন্নতা ছাপিয়ে ঐক্যের আহ্বান

মাহদী আমিন বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে সবাই নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সমান মর্যাদায় অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা। মহালয়ার এই তাৎপর্য ধারণ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি আধুনিক, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহদী আমিন শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে সমাজের সব ধরনের প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

পূজামণ্ডপে বরাদ্দ ও ছুটি বৃদ্ধি

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রত্যাশা, দুর্গোৎসবের আনন্দ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়বে। এই উৎসব যেন সবার মধ্যে আনন্দ, শান্তি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির একটি দৃঢ় বন্ধন। সমাজের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’

বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের অগ্রগতির চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক জনকল্যাণকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণেই সরকারের বক্তব্য, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মহালয়ার শুভ সূচনা সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

শনিবার সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে মাহদী আমিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতারা। পরে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা ও ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: বাসস