০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শীতের আগাম সবজির চড়া দাম, অপরিবর্তিত মাছ-মাংসের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৭১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বাজারে শীতকালীন আগাম সবজির দেখা মিলতে শুরু করেছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ফুলকপি, শিম, টমেটোসহ বেশির ভাগ সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি

বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা। টমেটোর দাম আরও বেশি। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এ ছাড়া ফুলকপি প্রতিটি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের আকারভেদে প্রতিটি কিনতে খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কচুমুখি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির দাম অপরিবর্তিত, কমেছে ডিমের দাম

সবজির বাজারে বাড়তি দামের চাপ থাকলেও মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে গরুর মাংসের দামও আগের মতো রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

তবে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। আগের তুলনায় ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারটি ডিম কিনতে ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির বিক্রেতা শরিফ বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। ফলে দাম ঘুরেফিরে ২০০ টাকার আশপাশেই থাকছে।

তিনি আরও বলেন, সোনালি মুরগি সাধারণত ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আজ বিক্রি করছেন ৩১০ টাকা কেজি দরে।

মাছের বাজারেও বড় পরিবর্তন নেই

রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছের দামও গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। তবে মাছের প্রজাতি, আকার এবং জীবিত না মৃত—এসবের ওপর ভিত্তি করে দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা। বড় আকারের রুই কিনতে খরচ হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

এ ছাড়া প্রতি কেজি পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ভেটকি মাছের দাম কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা। মিগেল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। চাষের কইয়ের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা। এ ছাড়া পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে। বাজারভেদে মাছের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যায়।

মাছ বিক্রেতা নাঈম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে মাছের আকার ও ধরন অনুযায়ী দামে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

বাড়তি দামে চাপে ক্রেতারা

বাজারের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, শীতের আগাম সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিম, টমেটো, বেগুন ও কাঁকরোলের মতো সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

অন্যদিকে মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সেগুলোর বর্তমান মূল্য অনেক ক্রেতার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ডিমের দাম কিছুটা কমায় সীমিত পরিসরে স্বস্তি মিলেছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সামগ্রিকভাবে স্বস্তি ফিরতে সবজির দাম কমার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতারা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শীতের আগাম সবজির চড়া দাম, অপরিবর্তিত মাছ-মাংসের বাজার

আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে শীতকালীন আগাম সবজির দেখা মিলতে শুরু করেছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ফুলকপি, শিম, টমেটোসহ বেশির ভাগ সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি

বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা। টমেটোর দাম আরও বেশি। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এ ছাড়া ফুলকপি প্রতিটি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের আকারভেদে প্রতিটি কিনতে খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কচুমুখি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।

সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির দাম অপরিবর্তিত, কমেছে ডিমের দাম

সবজির বাজারে বাড়তি দামের চাপ থাকলেও মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে গরুর মাংসের দামও আগের মতো রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

তবে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। আগের তুলনায় ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারটি ডিম কিনতে ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির বিক্রেতা শরিফ বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। ফলে দাম ঘুরেফিরে ২০০ টাকার আশপাশেই থাকছে।

তিনি আরও বলেন, সোনালি মুরগি সাধারণত ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আজ বিক্রি করছেন ৩১০ টাকা কেজি দরে।

মাছের বাজারেও বড় পরিবর্তন নেই

রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছের দামও গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। তবে মাছের প্রজাতি, আকার এবং জীবিত না মৃত—এসবের ওপর ভিত্তি করে দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা। বড় আকারের রুই কিনতে খরচ হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

এ ছাড়া প্রতি কেজি পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ভেটকি মাছের দাম কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা। মিগেল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। চাষের কইয়ের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা। এ ছাড়া পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে। বাজারভেদে মাছের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যায়।

মাছ বিক্রেতা নাঈম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে মাছের আকার ও ধরন অনুযায়ী দামে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

বাড়তি দামে চাপে ক্রেতারা

বাজারের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, শীতের আগাম সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিম, টমেটো, বেগুন ও কাঁকরোলের মতো সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

অন্যদিকে মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সেগুলোর বর্তমান মূল্য অনেক ক্রেতার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ডিমের দাম কিছুটা কমায় সীমিত পরিসরে স্বস্তি মিলেছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সামগ্রিকভাবে স্বস্তি ফিরতে সবজির দাম কমার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতারা।