শপথের পর এক টাকাও দুর্নীতি করিনি: আমির হামজা
- আপডেট সময় : ০৪:০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত সাড়ে ছয় মাসে তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হননি। একই সঙ্গে অন্য সংসদ সদস্যদেরও দুর্নীতিমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। এ সময় দেশের বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করে চিনির উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বানও জানান এই সংসদ সদস্য।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে আমির হামজা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে নিজের বিবেক ও সজ্ঞানে তিনি এক টাকারও সরকারি দুর্নীতি করেননি। তাঁর দাবি, তাঁর পাশে বসা সংসদ সদস্যরাও একই ধরনের নিশ্চয়তা দিতে পারবেন।
আমির হামজা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও দুর্নীতিমুক্ত থাকার বিষয়ে একই ধরনের বক্তব্য আসবে। অন্যদিকে, বাকি ২১২ জন সংসদ সদস্য দুর্নীতি করেননি—এমন নিশ্চয়তা দিতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন।
বন্ধ চিনিকল চালুর আহ্বান
বক্তব্যে দেশের চিনি উৎপাদন ও আমদানিনির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আমির হামজা। তাঁর দাবি, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদার বড় অংশ পূরণ করতে বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা গেলে স্থানীয়ভাবে চিনির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি চিনির বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
আমির হামজা বলেন, নিজেদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশের চিনির উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চিনিকলের অধীনে প্রায় ৭২০ বিঘা জমি পড়ে রয়েছে। এত সম্পদ থাকার পরও কেন বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সার, বীজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্বেগ
এ সময় সরকারের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, দেশে সার, বীজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের যথেষ্ট মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, জনসাধারণের মৌলিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চলছে।
আমির হামজার বক্তব্যে একদিকে সংসদ সদস্যদের দুর্নীতিমুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে দেশের চিনিশিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে। তবে দুর্নীতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য ও সরকারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে বিবেচ্য।

























