রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের
- আপডেট সময় : ১১:৫০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ। এসব বৈঠকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোর
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করে নয়। বরং রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই সমাধান নিহিত।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মিয়ানমারে এমন একটি পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে পারেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চাওয়া
জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতেও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অন্যদিকে জুলি বিশপের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দীর্ঘস্থায়ী সংকটে চাপে বাংলাদেশ
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর সংকটটি দীর্ঘমেয়াদি রূপ নেয়। এরপর কয়েক দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশের প্রশ্নে তা কার্যকরভাবে এগোয়নি।
ফলে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা। এতে বাংলাদেশের ওপর মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন। এরপর বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন। বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে এটি হবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ। প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য দেবেন।





















