রুশ তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল ট্রাম্পের, ভারত-চীনের বড় স্বস্তি
- আপডেট সময় : ১২:৫৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
রাশিয়ার তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছে রুশ তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা ভারত ও চীন। ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এর আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, আপাতত তার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে তিনি সংশ্লিষ্ট আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন।
জাতীয় স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা শিথিল
নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, গ্রাহাম আইনে উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্কের প্রয়োগ তিনি শিথিল করছেন। এ বিষয়ে কংগ্রেসের কাছে একটি সনদও জমা দিয়েছেন তিনি। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের ছাড় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকরের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প চাইলে এসব শুল্ক আবারও কার্যকর করতে পারবেন।
রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জবাবে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে ও. গ্রাহাম এই আইন উত্থাপন করেছিলেন। এতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়।
চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলো এই উদ্যোগের আওতায় আসার ঝুঁকিতে ছিল। তবে আইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়নি। শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, এর হার কত হবে এবং কখন তা কার্যকর হবে—এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে রাখা হয়েছিল।
এ কারণে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ভারত ও চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রাশিয়ার জ্বালানি কেনার কারণে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়ার আশঙ্কা আপাতত কমেছে।
ভারতের ওপর শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা
ভারতের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে রুশ তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করেছিল।
যদি ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতো, তাহলে বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি দেশটিকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হতো। তবে এসব শুল্ক স্থগিত থাকায় আপাতত সেই আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
এর আগে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এর পাশাপাশি আরও ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক যুক্ত করা হয়েছিল।
তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য কাঠামোর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত শুল্কগুলো প্রত্যাহার করা হয় এবং পারস্পরিক শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
বাণিজ্য চুক্তির আগে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা এগোচ্ছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ভবিষ্যতে শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে পরবর্তী সময়ে এসব ব্যবস্থা আবার কার্যকর করতে পারেন। ফলে ভারত ও চীন আপাতত স্বস্তি পেলেও বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট





















