০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীতে মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলেন আমির হামজা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিল আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই সংসদ সদস্য।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে প্রশাসনের উচিত তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা। তবে অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে—প্রশ্ন আমির হামজার

বক্তব্যে আমির হামজা প্রশ্ন তোলেন, রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা কি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী?

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে আলোচনা কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার জবাব যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে দেওয়া উচিত।

আমির হামজার মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগ তুলে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। ধর্মীয় আলোচনা ও রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত। ধর্মীয় আলোচনা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি জনগণের সামনে তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।

আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা টানলেন আমির হামজা

বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল আয়োজন ঘিরে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আমির হামজা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু রাজশাহীর এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে কি না।

আমির হামজা দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়। বরং ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

অনুমতি না মেলায় বাতিল তাফসির মাহফিল

উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় মাহফিল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক তাফসির কমিটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের।

এ ঘটনায় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মুজিবুর রহমান বলেন, ধর্মীয় আলোচনা ও তাফসির মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেবে।

মুজিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম আয়োজনে বাধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা তাঁর মতে আগের সরকারের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, যারা এ ধরনের আচরণ করছেন, তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

তবে মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কারণ বা এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ নেই। ফলে সিদ্ধান্তটির আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাজশাহীতে মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলেন আমির হামজা

আপডেট সময় : ১২:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিল আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, তা জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই সংসদ সদস্য।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে প্রশাসনের উচিত তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা। তবে অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে—প্রশ্ন আমির হামজার

বক্তব্যে আমির হামজা প্রশ্ন তোলেন, রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা কি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী?

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে আলোচনা কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার জবাব যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে দেওয়া উচিত।

আমির হামজার মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগ তুলে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। ধর্মীয় আলোচনা ও রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত। ধর্মীয় আলোচনা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি জনগণের সামনে তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।

আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা টানলেন আমির হামজা

বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল আয়োজন ঘিরে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আমির হামজা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু রাজশাহীর এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে কি না।

আমির হামজা দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়। বরং ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

অনুমতি না মেলায় বাতিল তাফসির মাহফিল

উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় মাহফিল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক তাফসির কমিটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের।

এ ঘটনায় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মুজিবুর রহমান বলেন, ধর্মীয় আলোচনা ও তাফসির মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেবে।

মুজিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম আয়োজনে বাধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা তাঁর মতে আগের সরকারের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, যারা এ ধরনের আচরণ করছেন, তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

তবে মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কারণ বা এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ নেই। ফলে সিদ্ধান্তটির আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।