রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি, আয়াস ও রিমি রিমান্ড শেষে কারাগারে
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি নষ্ট ও বিকৃত করার চেষ্টা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাতের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস ও মার্জিয়া খন্দকার রিমিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রিমান্ড শেষে কারাগারে আয়াস ও রিমি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন। পরে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তিনি।
এর আগে গত রোববার আদালত আ ন ম আয়াসের তিন দিন এবং মার্জিয়া খন্দকার রিমির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত শেষ করা এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের স্বার্থে তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আসামিদের আরও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানানো হয়।
জামিন শুনানিতে হট্টগোল
আদালতে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করা হয়।
এ সময় জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় অবস্থান নেন। প্রায় ছয় মিনিট পর বিচারক আবার এজলাসে ফিরে আসেন। এরপর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই মামলায় আরও দুই আসামি কারাগারে
এদিকে, একই মামলায় গ্রেপ্তার সাকিব ও সুজন নামে আরও দুই আসামিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদেরও মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃত ও নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
পরে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক জিয়াউল হক এ ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে মামলার অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে আসামিদের দায় নির্ধারিত হবে।























