মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল, বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬১৫ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা ‘জিরো কস্টে’ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
৩৩৮টি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খল নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছে একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এসব অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আগ্রহী কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কর্মী নিয়োগে অনিয়ম কমানো এবং বিদেশগামী কর্মীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
১০ হাজার কর্মী যাবেন বিনা খরচে
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সাধারণত বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য কর্মীদের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে জিরো কস্ট ব্যবস্থায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগটি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে এই সুবিধার আওতায় কারা আবেদন করতে পারবেন, নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী হবে এবং কবে থেকে আবেদন শুরু হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণার মাধ্যমে জানা যাবে।
অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারে যেতে পারবেন তাঁরা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে কর্মীদের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে কর্মীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিদেশযাত্রার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ পাবেন।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সুযোগ সফল করতে সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি ও কর্মীদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি, সুশৃঙ্খল ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্মীদের জন্য কী করণীয়?
মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের নিয়োগসংক্রান্ত পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
-
তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে।
-
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারে।
-
নিয়োগ, ভিসা ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করতে হবে।
-
জিরো কস্ট সুবিধার আওতায় পড়ার যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
-
সরকারি ঘোষণা যাচাই না করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, কর্মী নির্বাচন এবং নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর।




















