০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আটকে গেল পুলিশের আকাশযাত্রার স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুলিশের নিজস্ব আকাশ সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তির প্রায় পাঁচ বছর পরও সেগুলো দেশে পৌঁছায়নি। এদিকে চুক্তিমূল্যের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ, অর্থাৎ প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে কেনা হেলিকপ্টার দুটি দেশে আনার প্রক্রিয়া আটকে গেছে। হেলিকপ্টার পরিচালনার জন্য চার পুলিশ সদস্যকে পাইলট এবং একজনকে রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সেগুলো পরিচালনার সুযোগ পাননি।

৪২৮ কোটি টাকা পরিশোধ, তবু আসেনি হেলিকপ্টার

বাংলাদেশ পুলিশ স্থল ও নৌপথের পাশাপাশি আকাশপথে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় ২০২১ সালে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো, উদ্ধার অভিযান, জরুরি পরিস্থিতিতে মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্য ছিল এই উদ্যোগের।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাশিয়ার একটি কোম্পানি থেকে এমআই-১৭১-এ২ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত হয়। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৫৬ কোটি টাকা। ২০২২ সালের অক্টোবরে ক্রয় প্রক্রিয়ার অনুমোদন এবং একই বছরের নভেম্বরে চুক্তি সম্পন্ন হয়।

চুক্তির পর কয়েক ধাপে অর্থ পরিশোধ করা হয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত হেলিকপ্টার দুটির মূল্য বাবদ প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়। এর পরিমাণ প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা।

তবে অর্থ পরিশোধের পরও হেলিকপ্টার দুটি বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি।

নিষেধাজ্ঞায় জটিল হয়েছে পুরো প্রক্রিয়া

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির সময় থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় হেলিকপ্টার দুটি দেশে আনা এবং অর্থনৈতিক লেনদেন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হেলিকপ্টার দুটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এতে ইতোমধ্যে পরিশোধ করা অর্থের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তি বাতিল, অর্থ ফেরত পাওয়া কিংবা ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার গ্রহণ—কোন পথ নেওয়া হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজে লাগছে না পাইলটদের দক্ষতা

হেলিকপ্টার পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে ২০২২ সালে চার পুলিশ সদস্যকে পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি একজনকে রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী হেলিকপ্টার দেশে এলে তাঁদের মাধ্যমে পুলিশের আকাশযাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হেলিকপ্টার না আসায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণ নেওয়া চার পাইলট ও একজন রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলীকে র‍্যাবের এয়ার উইংয়ে পদায়ন করা হয়েছিল। সেখানে তাঁদের দক্ষতা ধরে রাখার জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার পাইলট বর্তমানে পুলিশ বিভাগে ফিরে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

মধ্যস্থতাকারীকে দেওয়া হয়েছে ১৭ কোটি টাকার বেশি

রাশিয়া থেকে হেলিকপ্টার দুটি কেনার প্রক্রিয়ায় একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছিল। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় মধ্যস্থতাকারীকে মোট চুক্তিমূল্যের ৪ শতাংশ দেওয়ার শর্ত ছিল।

এই খাতে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন সৈয়দ আহসান আহমেদ সায়মুম। তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার ছিলেন বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও সূত্রের দাবি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে হেলিকপ্টার গ্রহণ করলে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে হেলিকপ্টার দুটি গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেটি কবে সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত নয়।

পুলিশের বক্তব্য

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের এআইজি সাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয়। তিনি বলেন, হেলিকপ্টার কেনার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। তবে হেলিকপ্টার এখনো দেশে আসেনি।

কবে নাগাদ হেলিকপ্টার দুটি দেশে আসতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে চলতি বছরের মে মাসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে পুলিশের জন্য আলাদা এভিয়েশন উইং প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আটকে গেল পুলিশের আকাশযাত্রার স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০১:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের নিজস্ব আকাশ সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তির প্রায় পাঁচ বছর পরও সেগুলো দেশে পৌঁছায়নি। এদিকে চুক্তিমূল্যের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ, অর্থাৎ প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে কেনা হেলিকপ্টার দুটি দেশে আনার প্রক্রিয়া আটকে গেছে। হেলিকপ্টার পরিচালনার জন্য চার পুলিশ সদস্যকে পাইলট এবং একজনকে রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সেগুলো পরিচালনার সুযোগ পাননি।

৪২৮ কোটি টাকা পরিশোধ, তবু আসেনি হেলিকপ্টার

বাংলাদেশ পুলিশ স্থল ও নৌপথের পাশাপাশি আকাশপথে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় ২০২১ সালে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো, উদ্ধার অভিযান, জরুরি পরিস্থিতিতে মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্য ছিল এই উদ্যোগের।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাশিয়ার একটি কোম্পানি থেকে এমআই-১৭১-এ২ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত হয়। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৫৬ কোটি টাকা। ২০২২ সালের অক্টোবরে ক্রয় প্রক্রিয়ার অনুমোদন এবং একই বছরের নভেম্বরে চুক্তি সম্পন্ন হয়।

চুক্তির পর কয়েক ধাপে অর্থ পরিশোধ করা হয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত হেলিকপ্টার দুটির মূল্য বাবদ প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়। এর পরিমাণ প্রায় ৪২৮ কোটি টাকা।

তবে অর্থ পরিশোধের পরও হেলিকপ্টার দুটি বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি।

নিষেধাজ্ঞায় জটিল হয়েছে পুরো প্রক্রিয়া

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির সময় থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় হেলিকপ্টার দুটি দেশে আনা এবং অর্থনৈতিক লেনদেন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হেলিকপ্টার দুটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এতে ইতোমধ্যে পরিশোধ করা অর্থের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তি বাতিল, অর্থ ফেরত পাওয়া কিংবা ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার গ্রহণ—কোন পথ নেওয়া হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজে লাগছে না পাইলটদের দক্ষতা

হেলিকপ্টার পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে ২০২২ সালে চার পুলিশ সদস্যকে পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি একজনকে রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী হেলিকপ্টার দেশে এলে তাঁদের মাধ্যমে পুলিশের আকাশযাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হেলিকপ্টার না আসায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণ নেওয়া চার পাইলট ও একজন রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলীকে র‍্যাবের এয়ার উইংয়ে পদায়ন করা হয়েছিল। সেখানে তাঁদের দক্ষতা ধরে রাখার জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার পাইলট বর্তমানে পুলিশ বিভাগে ফিরে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

মধ্যস্থতাকারীকে দেওয়া হয়েছে ১৭ কোটি টাকার বেশি

রাশিয়া থেকে হেলিকপ্টার দুটি কেনার প্রক্রিয়ায় একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছিল। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় মধ্যস্থতাকারীকে মোট চুক্তিমূল্যের ৪ শতাংশ দেওয়ার শর্ত ছিল।

এই খাতে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন সৈয়দ আহসান আহমেদ সায়মুম। তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার ছিলেন বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও সূত্রের দাবি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে হেলিকপ্টার গ্রহণ করলে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে হেলিকপ্টার দুটি গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেটি কবে সম্ভব হবে, তা নিশ্চিত নয়।

পুলিশের বক্তব্য

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের এআইজি সাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয়। তিনি বলেন, হেলিকপ্টার কেনার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। তবে হেলিকপ্টার এখনো দেশে আসেনি।

কবে নাগাদ হেলিকপ্টার দুটি দেশে আসতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে চলতি বছরের মে মাসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে পুলিশের জন্য আলাদা এভিয়েশন উইং প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।