০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিক্ষোভে এখনও উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে এক মাসে গ্রেপ্তার ১,২৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের বিক্ষোভ এক মাসেও থামেনি। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত এক মাসে প্যারিস মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই নাবালক।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্যারিসে রেকর্ডসংখ্যক গ্রেপ্তার

প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফ্রান্সে এর আগে কোনো আন্দোলনে এত বেশি মানুষ গ্রেপ্তারের নজির নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় এক মাসের বিক্ষোভে ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডার্ম এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে বারবার সহিংসতার ঘটনা ঘটছে এবং এর তীব্রতা বাড়ছে। গত ১৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ জন সদস্য আহত হন।

দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁ শহরের বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ২০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। প্যারিসের পশ্চিমে জুই-এন-জোসা এলাকায় অবস্থিত এইচইসি প্যারিসেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, লিওঁ শহরের প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত একটি ছাত্র বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। আগের কর্মসূচিগুলোতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে সরকার

আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে ফরাসি সরকার। শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেছেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’-এর মাধ্যমে পরিচালিত ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

তিনি আরও জানান, সরকার ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, বিশেষ সমস্যার মুখে থাকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে। গ্রাদিগনান এলাকায় এমন স্কুলের সংখ্যা ১১৪ থেকে কমে ৪৭টিতে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। শরতের ছুটির পর স্কুলগুলো খুললে কোনো উচ্চ বিদ্যালয়কে যেন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকতে না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষকদের সংকট ও অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্ষোভ

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের শহরতলির একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস পরিচালনা এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অভিযোগ তুলে তারা প্রতিবাদ শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও এতে যুক্ত হয়।

গত ৮ অক্টোবরের এক বৈঠকে ‘লে লিসিয়েনস!’ ও ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন’-এর মতো শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছিল।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, বিক্ষোভ এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং কিছু এলাকায় তা শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। তিনি প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার আহ্বানের নিন্দা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, স্কুল ভবনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন কবে থামবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিক্ষোভে এখনও উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে এক মাসে গ্রেপ্তার ১,২৬০

আপডেট সময় : ১২:২৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের বিক্ষোভ এক মাসেও থামেনি। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত এক মাসে প্যারিস মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই নাবালক।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্যারিসে রেকর্ডসংখ্যক গ্রেপ্তার

প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফ্রান্সে এর আগে কোনো আন্দোলনে এত বেশি মানুষ গ্রেপ্তারের নজির নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় এক মাসের বিক্ষোভে ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডার্ম এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে বারবার সহিংসতার ঘটনা ঘটছে এবং এর তীব্রতা বাড়ছে। গত ১৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ জন সদস্য আহত হন।

দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁ শহরের বেশ কয়েকটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ২০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। প্যারিসের পশ্চিমে জুই-এন-জোসা এলাকায় অবস্থিত এইচইসি প্যারিসেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, লিওঁ শহরের প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত একটি ছাত্র বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। আগের কর্মসূচিগুলোতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে সরকার

আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে ফরাসি সরকার। শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেছেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’-এর মাধ্যমে পরিচালিত ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

তিনি আরও জানান, সরকার ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, বিশেষ সমস্যার মুখে থাকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে। গ্রাদিগনান এলাকায় এমন স্কুলের সংখ্যা ১১৪ থেকে কমে ৪৭টিতে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। শরতের ছুটির পর স্কুলগুলো খুললে কোনো উচ্চ বিদ্যালয়কে যেন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকতে না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষকদের সংকট ও অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্ষোভ

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের শহরতলির একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস পরিচালনা এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অভিযোগ তুলে তারা প্রতিবাদ শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও এতে যুক্ত হয়।

গত ৮ অক্টোবরের এক বৈঠকে ‘লে লিসিয়েনস!’ ও ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন’-এর মতো শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছিল।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, বিক্ষোভ এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং কিছু এলাকায় তা শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। তিনি প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার আহ্বানের নিন্দা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, স্কুল ভবনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন কবে থামবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।