০৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বান্দরবানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স

আবুবকর ছিদ্দিক, বান্দরবান প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৮০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০২৬’। সম্মেলনে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে নগদ অর্থের পরিবর্তে নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত লিড ব্যাংকিং পদ্ধতির আওতায় এ আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘এক দেশ এক QR, লেনদেনে বাংলা QR’। আধুনিক ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাদের আগ্রহী করে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

শিক্ষাজীবন থেকেই গড়ে তুলতে হবে সঞ্চয়ের অভ্যাস

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. ইকবাল মহসীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফিয়া আক্তার, সোনালী ব্যাংক পিএলসির টেরিটোরিয়াল জেনারেল ম্যানেজার রানা অমিতাদ দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বান্দরবানের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবু রায়হান, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং ইউসিবি পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আঞ্চলিক প্রধান মেহেদী হাসান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসিবি পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বান্দরবান শাখার শাখা প্রধান মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইউছুফ আলী।

বক্তারা বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আর্থিকভাবে সচেতন নাগরিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সচেতনতা তৈরির সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো শিক্ষাজীবন। তাই এ সময় থেকেই শিক্ষার্থীদের অর্থের সঠিক ব্যবহার, আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার মানসিকতা তৈরি হয়। এতে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতনতা জরুরি

বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে ব্যাংকিং সেবার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। এখন মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ঘরে বসেই অনেক ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্মকে এসব সেবার ব্যবহার সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন।

তবে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং অনিরাপদ লেনদেন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাবের গোপন তথ্য, পিন ও ওটিপি অপরিচিত কারও সঙ্গে শেয়ার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তাঁরা জানান, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা আধুনিক আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে পারে। বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ পাচ্ছেন। তাই শিক্ষার্থীদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা জরুরি।

‘এক দেশ এক QR’ উদ্যোগে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসার

সম্মেলনে ‘এক দেশ এক QR, লেনদেনে বাংলা QR’ প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটলে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ব্যাংকিং সেবার আওতায় আরও বেশি মানুষকে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

তবে ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করতে হলে শুধু প্রযুক্তির বিস্তার যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার শেখাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তারা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে পরিচিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা, ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়মুখী মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের জন্যও এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিক্ষাজীবন থেকেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হলে তারা ভবিষ্যতে আর্থিক সেবা গ্রহণে আরও সচেতন হবে।

সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি, আর্থিক পরিকল্পনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংকিং সেবার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, বান্দরবানে এ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস বাড়বে এবং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনে অংশগ্রহণের আগ্রহ তৈরি হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বান্দরবানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স

আপডেট সময় : ০৫:২১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০২৬’। সম্মেলনে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে নগদ অর্থের পরিবর্তে নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত লিড ব্যাংকিং পদ্ধতির আওতায় এ আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘এক দেশ এক QR, লেনদেনে বাংলা QR’। আধুনিক ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাদের আগ্রহী করে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

শিক্ষাজীবন থেকেই গড়ে তুলতে হবে সঞ্চয়ের অভ্যাস

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. ইকবাল মহসীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফিয়া আক্তার, সোনালী ব্যাংক পিএলসির টেরিটোরিয়াল জেনারেল ম্যানেজার রানা অমিতাদ দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বান্দরবানের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবু রায়হান, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং ইউসিবি পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আঞ্চলিক প্রধান মেহেদী হাসান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসিবি পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বান্দরবান শাখার শাখা প্রধান মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইউছুফ আলী।

বক্তারা বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আর্থিকভাবে সচেতন নাগরিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সচেতনতা তৈরির সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো শিক্ষাজীবন। তাই এ সময় থেকেই শিক্ষার্থীদের অর্থের সঠিক ব্যবহার, আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার মানসিকতা তৈরি হয়। এতে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতনতা জরুরি

বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে ব্যাংকিং সেবার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। এখন মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ঘরে বসেই অনেক ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্মকে এসব সেবার ব্যবহার সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন।

তবে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং অনিরাপদ লেনদেন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাবের গোপন তথ্য, পিন ও ওটিপি অপরিচিত কারও সঙ্গে শেয়ার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তাঁরা জানান, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা আধুনিক আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে পারে। বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ পাচ্ছেন। তাই শিক্ষার্থীদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা জরুরি।

‘এক দেশ এক QR’ উদ্যোগে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসার

সম্মেলনে ‘এক দেশ এক QR, লেনদেনে বাংলা QR’ প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটলে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ব্যাংকিং সেবার আওতায় আরও বেশি মানুষকে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

তবে ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করতে হলে শুধু প্রযুক্তির বিস্তার যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার শেখাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তারা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে পরিচিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা, ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়মুখী মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের জন্যও এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিক্ষাজীবন থেকেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হলে তারা ভবিষ্যতে আর্থিক সেবা গ্রহণে আরও সচেতন হবে।

সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি, আর্থিক পরিকল্পনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংকিং সেবার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, বান্দরবানে এ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস বাড়বে এবং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনে অংশগ্রহণের আগ্রহ তৈরি হবে।