বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান ভারতের
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে ভারত আশা করে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের প্রতিক্রিয়া
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাম্প্রতিক একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। দুর্গাপূজার আগে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গত তিন মাসে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডসহ সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ১৪১টি নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও অভিযোগ করে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘আমাদের আশা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হবে।’
তবে এ সময় বাংলাদেশের অতীত বা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি দোষারোপমূলক কোনো মন্তব্য করেননি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র।
তিন মাসে ১৪১টি ঘটনার দাবি ঐক্য পরিষদের
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো বিবৃতিতে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের হামলা ও নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, এই তিন মাসে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি। ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে চারটি। এ ছাড়া মন্দিরে হামলা, লুটপাট, জায়গা দখল ও বিগ্রহ ভাঙচুরের ৩৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সাতটি। বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১১টি।
এ ছাড়া হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ২৬টি এবং জমি ও সম্পত্তি দখলের ১৪টি ঘটনার অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা তিনটি এবং চাঁদাবাজির ঘটনা চারটি বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। অন্যান্য ধরনের আরও ১৪টি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটকের বিষয়টিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বিবৃতিতে শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের সময় দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে দুঃখ ও দুর্ভাগ্য প্রকাশ করেছে ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনটির বক্তব্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলা বা নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।
তবে সংগঠনটির উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব পরিসংখ্যানকে সংগঠনটির দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
বিমসটেক সম্মেলন নিয়েও প্রশ্ন
একই সংবাদ সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রসচিব অংশ নেন।
প্রশ্নকর্তা এর আগে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গও তোলেন। তবে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি রণধীর জয়সোয়াল।
তিনি বরং বিমসটেক সম্মেলনের অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলন শেষে ‘দিল্লি ঘোষণাপত্র’ গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি।
আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব
রণধীর জয়সোয়াল জানান, সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ, অর্থ পাচার ও মাদক চোরাচালানের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধ যৌথভাবে প্রতিরোধে সদস্যদেশগুলো একমত হয়েছে।
বিমসটেকের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে ভারতের বক্তব্য এবং বিমসটেক সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি একই ব্রিফিংয়ে উঠে এলেও, দুই বিষয়ে পৃথকভাবে কোনো নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।





















