বলের আঘাতে মাঠ ছাড়লেন হাশমতউল্লাহ শাহিদি, চাপে আফগানিস্তান
- আপডেট সময় : ০১:০৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৯ বার পড়া হয়েছে
আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিং করার সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে। ফিল্ডারের ছোড়া বল এসে তার প্যাডে আঘাত করার পর তিনি মাটিতে শুয়ে পড়েন। পরে ফিজিওর চিকিৎসা নেওয়ার পর প্যাড খুলে ধীরে ধীরে মাঠ ছাড়েন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শাহিদির এই চোট আফগানিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছে আফগানিস্তান। জিততে হলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ভাঙতে হবে দলটিকে।
ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়লেন শাহিদি
ম্যাচ চলাকালে ফিল্ডারের ছোড়া বল এসে শাহিদির প্যাডে আঘাত করে। এরপরই মাটিতে শুয়ে পড়েন আফগান অধিনায়ক। পরিস্থিতি দেখে মাঠে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। পরে ফিজিও এসে তার চিকিৎসা করেন।
তবে ব্যথার কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। মাঠ ছাড়ার আগে ৩৩ বলে ২০ রান করেন শাহিদি। তার চোটের অবস্থা এবং তিনি আবার ব্যাটিংয়ে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকেরা।
শেষ দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অধিনায়কের মাঠ ছাড়ার ঘটনা আফগানিস্তানের রান তাড়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এতে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।
চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান। ফলে শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট।
টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের নজির রয়েছে। তাই বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্য অতিক্রম করতে হলে আফগানিস্তানকে নতুন ইতিহাস গড়তে হবে।
এ ছাড়া শেষ দিনের পিচের আচরণও আফগান ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। উইকেট থেকে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেলে রান তাড়া আরও কঠিন হবে।
লিটনের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ বাংলাদেশের
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করেছেন লিটন দাস। নিজের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১০২ রান করেন তিনি। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। শান্ত করেন ৮২ রান এবং মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৮১ রান।
এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদের ব্যাটিংয়ে ভর করেই বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।
আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ২৪০ রানের জবাবে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইনিংস ঘোষণা করায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়।
শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে জয়ের সুযোগ
আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে রহমত শাহ ৫১ রান করে আউট হন। সেদিকুল্লাহ আতাল অপরাজিত ৩৫ রান নিয়ে দিনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হাশমতউল্লাহ শাহিদিও মাঠ ছাড়ার আগে ২০ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও বোলারদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে। ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করেছেন।
সব মিলিয়ে শেষ দিনের খেলায় বাংলাদেশের সামনে জয়ের ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা কতক্ষণ প্রতিরোধ গড়তে পারেন এবং শাহিদি আবার ব্যাটিংয়ে ফিরতে পারেন কি না, সেটিই এখন ম্যাচের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস ৩৪৬; দ্বিতীয় ইনিংস ৭ উইকেটে ৩৭২ (ইনিংস ঘোষণা)। লিটন দাস ১০২, নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১, মেহেদী হাসান মিরাজ ৫২*।
আফগানিস্তান: প্রথম ইনিংস ২৪০; দ্বিতীয় ইনিংস ৩ উইকেটে ১৩২ (চতুর্থ দিন শেষে)। রহমত শাহ ৫১, সেদিকুল্লাহ আতাল ৩৫*, হাশমতউল্লাহ শাহিদি ২০। বাংলাদেশের হয়ে ইবাদত হোসেন ২টি ও হাসান মাহমুদ ১টি উইকেট নেন।























