বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে বেশিরভাগই হচ্ছে লোক দেখানো পরিকল্পনা

0

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে প্রতিবছর কয়েকশ’ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হলেও এর বেশিরভাগই হচ্ছে লোক দেখানো পরিকল্পনা। বাজেটের এই পরিকল্পনা প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হলেও তা ছাপা অক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। বইয়ের পাতা থেকে বের হয়ে তা বাস্তবায়ন কিংবা জনগণের কাজে আসছে না। এভাবেই চলে আসছে বছরের পর বছর। বাজেট শুধু লোক দেখানোর সান্ত্বনা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সবশেষ বাজেট ঘোষণা হয় ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই। চতুর্থ পরিষদের মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বাজেটের আকার ছিল ৫শ’ ৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। বাজেটে নগরীর ৪৩টি খাল পুনঃখনন, আধুনিক মার্কেট নির্মাণ, আধুনিক কমিউনিটি সিটি নির্মাণসহ ১৯টি মধ্যমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা এবং সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বৃদ্ধি, জলাশয় ভরাট বন্ধ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাসহ ১০টি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার উল্লেখ করা হলেও এক বছরে এর একটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিষদের দায়িত্বে থাকাবস্থায় যারা বাজেট ঘোষণা করেছেন তাদের বাজেট বাস্তবায়নও একইভাবে বাজেট বইয়ের পাতার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল।

সিটি কর্পোরেশন যেভাবে গুরুত্বের সাথে বাজেট ঘোষণা করে, ওই গুরুত্বটা বাজেট বাস্তবায়নে থাকে না। এজন্য নগরবাসীর চাহিদা মাফিক বাজেট প্রনয়ন এবং শক্তিশালী নজরদারীর মাধ্যমে উন্নয়নের দাবি জানান সুশীল সমাজের নেতারা।

বাজেট হচ্ছে একটি নগরীর এক বছরের উন্নয়নের রোডম্যাপ। নগরবাসী চাইবে তা বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়ন হউক। আর এ বাজেট বাস্তবায়নে ছয় মাস পরপর এর অগ্রগতি ও অর্জনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করতে হবে, বললেন এ অর্থনীতিবিদ। আর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক বললেন, বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে বরাদ্দ দিতে হবে। একই সাথে সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব থাকবে ওই বরাদ্দ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা।

বাজেটে সম্ভাব্য আয় ধরা হলেও সেখানে বিশাল ঘাটতি থেকে যাওয়ায় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না, বলে জানালেন প্যানেল মেয়র।

এদিকে বরিশালের ১০টি উপজেলা পরিষদ, ৬টি পৌরসভা এবং ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিবছর যে বাজেট ঘোষণা করা হয়, তাও একইভাবে সীমাবদ্ধ থাকছে খাতা-কলমেই।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন