ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬২ বার পড়া হয়েছে
পুলিশের কোনো সদস্য ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রয়োজনে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও করা হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফেরানোর তাগিদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের শিকার বা নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষ প্রথমেই পুলিশের কাছে যায়। তাই পুলিশের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের ওপর জনগণের আস্থা অনেকাংশে নির্ভর করে।
তিনি বলেন, সরকার দক্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চায়। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়ালে শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। অপরাধ সংঘটিত হলে ফৌজদারি আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সদিচ্ছা থেকে ছোটখাটো ভুল হলে তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সহযোগিতার অভিযোগ
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, অতীতে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ ও বেআইনি নির্দেশ পালন করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে সংশোধনের পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জনের সুযোগ পুলিশ সদস্যদের দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা, অবহেলা করা কিংবা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে গোপনে তথ্য বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। পদমর্যাদা যাই হোক, জনপ্রত্যাশা বুঝতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ গড়ার পরিকল্পনা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য ও তদন্ত কৌশল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের সদস্যদের জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি।





















