প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, ঢাকায় প্রার্থীদের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭৪ বার পড়া হয়েছে
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগের পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা। এ সময় কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা। হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ
সরেজমিনে রাজধানীর মতিঝিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, বালক উচ্চবিদ্যালয়, বাংলা কলেজ, খিলগাঁও মডেল কলেজ ও শাপলা চত্বর এলাকায় পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তি এবং নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাঁরা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক চাকরিপ্রার্থী ধারদেনা করে ঢাকায় এসেছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাতভর ভ্রমণ করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে স্থগিতের খবর পেয়ে তাঁদের হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির দায় কে নেবে, প্রশ্ন প্রার্থীদের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী রুমা রানা বলেন, লাখ লাখ শিক্ষার্থী ঢাকায় থাকেন না। জেলা শহর থেকে ধারদেনা করে এবং সারারাত ভ্রমণ করে অনেকেই পরীক্ষা দিতে রাজধানীতে আসেন। পরীক্ষা শেষ করেই তাঁদের আবার বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি থাকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিতের খবর তাঁদের হতাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরিশ্রম, আর্থিক ক্ষতি ও ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের দায় কে নেবে? রাষ্ট্র কেন এখনো প্রশ্নফাঁস চক্রের লাগাম টানতে পারছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন রুমা রানা।
পরীক্ষার্থীরা বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সত্য হলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান তাঁরা। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বিক্ষোভকারীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উপস্থিতি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ান ইসলাম বলেন, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষার্থীরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আন্দোলন করছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
তিন লাখের বেশি প্রার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল
প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ১১তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এখন পরীক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন আন্দোলনকারীরা।





















