প্রতিবাদী কণ্ঠ দমিয়ে রাখা যাবে না: শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ১২:৫৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। জামিনে মুক্তির পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, রিমান্ডে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
অন্যদিকে, প্রতিবাদী কণ্ঠকে কারাগারে আটকে রেখে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠক
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জামিনে মুক্তির পর রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। আখতারুজ্জামানের অভিযোগ, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশ তার বাসায় গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। কেন তিনি আগের দল ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
এ ছাড়া রিমান্ডে জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম এবং সংগঠন পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এসব বিষয়ে তাকে নানা প্রশ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিবাদের পর কমেছে লাগেজ পেতে ভোগান্তি: শফিকুর রহমান
বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে দেশে ফেরা প্রবাসীদের লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রবাসীরা বিমানবন্দরে অবতরণের পর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই লাগেজ হাতে পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অথচ দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে দমন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
কারাগারে রেখে প্রতিবাদী কণ্ঠ থামানো যাবে না
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন মানুষকে এক মাস কারাগারে আটকে রেখে তার প্রতিবাদী কণ্ঠ থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় মানুষের প্রতিবাদ এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমন করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা নাগরিকের অধিকার। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর লড়াই অব্যাহত থাকবে।
জামায়াত আমিরের মতে, বিরোধী দলের ওপর দায় চাপিয়ে সরকার নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। বরং জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার করে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। মানুষের অভিযোগ শুনতে হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মের প্রতিবাদে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ঘিরে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।





















