পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা ব্যানার্জী এখনও অপরাজেয়

0

মমতা ব্যানার্জী আবার প্রমাণ করলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তিনি এখনও অপরাজেয় । কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে বহু পিছনে ফেলে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস আবারও বিপুল বিজয় পেয়েছে। বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আনতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বার বার এই রাজ্যে এসে সভা করেছেন, তবু ভোট যুদ্ধে পেরে ওঠেননি মমতার তৃণমূলের সংগে। পায়ে চোট পেয়ে হুইলচেয়ারে বসে প্রচারাভিযান চালান মমতা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, কেমন করে পশ্চিমবঙ্গের এবং সর্বভারতীয় রাজনীতির এত বড় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারলেন মমতা ব্যানার্জী? – কী তার সাফল্যের উৎস?

কলকাতার হাজরা এলাকার এক নিম্নবিত্ত পরিবারে মমতা ব্যানার্জীর জন্ম ১৯৫৫ সালে। তার পিতা ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগের একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং যোগেশচন্দ্র কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রি নেবার পর মমতা ব্যানার্জীর প্রথম পেশা ছিল স্কুলশিক্ষকতা। তবে রাজনীতি করতে শুরু করেছিলেন ছাত্রজীবন থেকেই । কিছু দিনের মধ্যেই দলে সিনিয়র নেতাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে মমতা ব্যানার্জী রাজনীতিতে অনেকদূর যাবেন।

১৯৭০-এর দশকে যখন তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেস দলের একেবারে সাধারণ একজন কর্মী হিসেবেই। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই তাঁর মধ্যে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা দেখেছিলেন তার সিনিয়র নেতারা। তিনি ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর অনুরাগী এবং তার প্রাথমিক রাজনৈতিক জীবন কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে সেকালের সিনিয়র কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জির ছায়ায় – যিনি পরবর্তীকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এটা লিখেও গেছেন যে মমতা ব্যানার্জীর একটা ক্যারিশমা বা সম্মোহনী ক্ষমতা আছে।”

১৯৭৬ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সেই তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কংগ্রেস (আই) এর সাধারণ সম্পাদক হন। কয়েক বছর পর তিনি হন নিখিল ভারত যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ।তার ভাষায়, “তার রাজনৈতিক জীবনে বহু বাধা এসেছে, ২০০১ সালে রাজ্য নির্বাচনে হারার পর তার দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ধ্বংস হবার উপক্রম হয়েছিল, কিন্তু তিনি আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন, দলকে পুনর্গঠিত করেছেন। যা ছিল মমতার লড়াই করার ক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন