নিষিদ্ধ হামজা চৌধুরী, ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে খেলতে পারবেন না
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
ম্যাচে পরাজয়ের হতাশার মধ্যে এবার নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা খেলেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। ফলে আগামী শনিবার ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে শেফিল্ড ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই বাংলাদেশি ফুটবলার।
তবে হামজার লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, হামজাকে লাল কার্ড না দেখানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পরও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
দুই হলুদ কার্ডে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাকে
পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ম্যাচটি শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য হতাশার হয়ে এসেছে। ম্যাচে হারের পাশাপাশি দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার হামজাকে পরের ম্যাচে হারানোর শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখায় লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাকে। ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, একই ম্যাচে দুই হলুদ কার্ডে বহিষ্কৃত হলে সাধারণত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। সেই হিসাবে ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।
দলের মাঝমাঠে হামজার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার অনুপস্থিতি পরবর্তী ম্যাচে শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্রিস ওয়াইল্ডার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামজাকে লাল কার্ড দেখানো হবে না বলে প্রথমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা রেফারির কাছে আবেদন করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
ওয়াইল্ডার বলেন, মাঠে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। হামজার ঘটনাটি নিয়েও তাদের প্রশ্ন রয়েছে। তবে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শেফিল্ড কোচের ভাষ্য, হামজার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট। তার মতে, মাঠে এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি।
অন্য ম্যাচের উদাহরণ টানলেন ওয়াইল্ডার
নিজের বক্তব্যের পক্ষে ওয়েস্ট হাম ও কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের মধ্যকার একটি ম্যাচের উদাহরণও তুলে ধরেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ।
ওয়াইল্ডারের দাবি, ওই ম্যাচের ৯৩ মিনিটে ওয়েস্ট হাম পেনাল্টি পেয়েছিল। পরে জার্সি টানার ঘটনা নিয়ে চতুর্থ অফিশিয়ালের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। এসব উদাহরণ তুলে ধরে মাঠে রেফারির সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান শেফিল্ড কোচ।
হামজার লাল কার্ড নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ওয়াইল্ডার বলেন, তাদের জানানো হয়েছিল যে হামজাকে লাল কার্ড দেখানো হবে না। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা রেফারির কাছে আবেদন করতেই পারেন, কারণ এটি খেলারই অংশ। তবে পুরো ঘটনায় নিজেদের অন্যায়ের শিকার বলে মনে করছে শেফিল্ড ইউনাইটেড।
পয়েন্ট তালিকায় ১৫ নম্বরে শেফিল্ড ইউনাইটেড
পোর্টসমাউথের কাছে হারের পর ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে পড়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দলটি রয়েছে ১৫ নম্বরে।
অন্যদিকে, এক ম্যাচ কম খেলে ১১ পয়েন্ট অর্জন করা পোর্টসমাউথ রয়েছে ১৬ নম্বরে। ফলে পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান ধরে রাখতে এবং পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে হামজার অনুপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে ম্যাচে তার জায়গায় কাকে খেলানো হবে, সেটিও এখন শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচিং স্টাফের জন্য বিবেচনার বিষয়।





















