ধৈর্য ধরে সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ০১:৪০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
বহু প্রাণের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ গঠনের বিরল সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ধৈর্য ধরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ধীরে ধীরে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএআরআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাটির শিরোনাম ছিল ‘নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিএআরআইয়ের অবদান এবং বর্তমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’।
বিগত শাসনে বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের সব খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। প্রতিটি খাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধৈর্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্ব
কৃষি খাতের উন্নয়নে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির উন্নয়নের ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও অনেক সময় কৃষক তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান না। ফলে কৃষিকে লাভজনক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, উৎপাদিত কৃষিপণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পণ্যের অপচয় কমানো এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে।
কৃষকের ন্যায্যমূল্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ
রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্যের জন্য উন্নত সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতেও এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য কৃষি গবেষণার অগ্রগতি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিপণ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষি গবেষণার অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। কৃষি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।




















