০১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

জার্মানির নাৎসি যুগের জাতীয় সংগীত গাওয়ায় দর্শকের ‘শাস্তি’

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১১:১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ১৬৪৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউএস ওপেনের ম্যাচ চলার সময় এক দর্শক নাৎসি আমলের জাতীয় সংগীত গাওয়ায় তাকে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে৷ জার্মানির টেনিস খেলোয়াড় আলেকসান্ডা স্ভেরেফের অভিযোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের ঐ ম্যাচে স্ভেরেফ ইটালির ইয়ানিক সিনার বিরুদ্ধে খেলছিলেন৷ এক পর্যায়ে এক দর্শককে ঐ সংগীত গাইতে শুনে তিনি ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ করেন৷

খেলা শেষে স্ভেরেফ বলেন, ‘‘তিনি (দর্শক) হিটলারের জাতীয় সংগীত গাওয়া শুরু করেন৷ একজন জার্মান হিসেবে আমি ইতিহাসের ঐ সময়টা নিয়ে গর্বিত নই, এবং সেজন্য এটা করা ঠিক নয়৷” তিনি বলেন, ‘‘তিনি (দর্শক) প্রথম সারিতে ছিলেন, ফলে অনেক মানুষ সেটা শুনেছে৷ আমি যদি প্রতিক্রিয়া না দেখাতাম, তাহলে সেটা আমার দিক থেকে খারাপ হতো৷”

স্ভেরেফ আরও বলেন, ‘‘তিনি (দর্শক) শুধুমাত্র হিটলারের সবচেয়ে পরিচিত বাক্যটা বলছিলেন৷ এটা গ্রহণযোগ্য নয়, এটা অবিশ্বাস্য৷”

২৬ বছর বয়সি স্ভেরেফের মা-বাবা রাশিয়ার৷ তবে ১৯৯০ সালের দিকে তারা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ত্যাগ করেছিলেন৷

জার্মানির জাতীয় সংগীত নেয়া হয়েছে ‘জার্মানদের গান’ কবিতা থেকে৷ এই কবিতায় তিনটি চরণ আছে৷ প্রথম চরণের প্রথম লাইনটি এমন ‘জার্মানি, সবার ওপরে, বিশ্বের সবকিছুর ওপরে জার্মানি’৷ একসময় জাতীয় সংগীতে কবিতার এই অংশটি ব্যবহৃত হতো৷ নাৎসি আমলেও সেটি বলবৎ ছিল৷ কিন্তু অতীতের তুলনায় বেশি আক্ষরিক অর্থে গানের কথাগুলো গ্রহণ করেছিল নাৎসি সরকার৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতীয় সংগীতে ঐ কবিতার প্রথম চরণ বাদ দিয়ে শেষ চরণটি নেয়া হয়৷ সুর একই রাখা হয়৷ শেষ চরণের প্রথম লাইনটি এমন, ‘জার্মান পিতৃভূমির জন্য ঐক্য এবং ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতা!’ বর্তমানে এটিই জাতীয় সংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে৷

ঐ দর্শক রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য প্রদর্শন করতে নাৎসি আমলের জাতীয় সংগীত গাইছিলেন কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি৷ কিংবা ঐ জাতীয় সংগীতকে যে অনেক আধুনিক জার্মান নেতিবাচক হিসেবে দেখেন, ঐ দর্শক সেটা জানতেন কিনা, তা-ও জানা যায়নি৷ কারণ, জাতীয় সংগীতে যে পরিবর্তন এসেছে সেটি জার্মান ভাষাভাষী দেশগুলোর বাইরের মানুষ যে জানবেনই, বিষয়টা তেমন নয়৷

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জার্মানির নাৎসি যুগের জাতীয় সংগীত গাওয়ায় দর্শকের ‘শাস্তি’

আপডেট সময় : ১১:১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ইউএস ওপেনের ম্যাচ চলার সময় এক দর্শক নাৎসি আমলের জাতীয় সংগীত গাওয়ায় তাকে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে৷ জার্মানির টেনিস খেলোয়াড় আলেকসান্ডা স্ভেরেফের অভিযোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের ঐ ম্যাচে স্ভেরেফ ইটালির ইয়ানিক সিনার বিরুদ্ধে খেলছিলেন৷ এক পর্যায়ে এক দর্শককে ঐ সংগীত গাইতে শুনে তিনি ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ করেন৷

খেলা শেষে স্ভেরেফ বলেন, ‘‘তিনি (দর্শক) হিটলারের জাতীয় সংগীত গাওয়া শুরু করেন৷ একজন জার্মান হিসেবে আমি ইতিহাসের ঐ সময়টা নিয়ে গর্বিত নই, এবং সেজন্য এটা করা ঠিক নয়৷” তিনি বলেন, ‘‘তিনি (দর্শক) প্রথম সারিতে ছিলেন, ফলে অনেক মানুষ সেটা শুনেছে৷ আমি যদি প্রতিক্রিয়া না দেখাতাম, তাহলে সেটা আমার দিক থেকে খারাপ হতো৷”

স্ভেরেফ আরও বলেন, ‘‘তিনি (দর্শক) শুধুমাত্র হিটলারের সবচেয়ে পরিচিত বাক্যটা বলছিলেন৷ এটা গ্রহণযোগ্য নয়, এটা অবিশ্বাস্য৷”

২৬ বছর বয়সি স্ভেরেফের মা-বাবা রাশিয়ার৷ তবে ১৯৯০ সালের দিকে তারা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ত্যাগ করেছিলেন৷

জার্মানির জাতীয় সংগীত নেয়া হয়েছে ‘জার্মানদের গান’ কবিতা থেকে৷ এই কবিতায় তিনটি চরণ আছে৷ প্রথম চরণের প্রথম লাইনটি এমন ‘জার্মানি, সবার ওপরে, বিশ্বের সবকিছুর ওপরে জার্মানি’৷ একসময় জাতীয় সংগীতে কবিতার এই অংশটি ব্যবহৃত হতো৷ নাৎসি আমলেও সেটি বলবৎ ছিল৷ কিন্তু অতীতের তুলনায় বেশি আক্ষরিক অর্থে গানের কথাগুলো গ্রহণ করেছিল নাৎসি সরকার৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতীয় সংগীতে ঐ কবিতার প্রথম চরণ বাদ দিয়ে শেষ চরণটি নেয়া হয়৷ সুর একই রাখা হয়৷ শেষ চরণের প্রথম লাইনটি এমন, ‘জার্মান পিতৃভূমির জন্য ঐক্য এবং ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতা!’ বর্তমানে এটিই জাতীয় সংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে৷

ঐ দর্শক রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য প্রদর্শন করতে নাৎসি আমলের জাতীয় সংগীত গাইছিলেন কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি৷ কিংবা ঐ জাতীয় সংগীতকে যে অনেক আধুনিক জার্মান নেতিবাচক হিসেবে দেখেন, ঐ দর্শক সেটা জানতেন কিনা, তা-ও জানা যায়নি৷ কারণ, জাতীয় সংগীতে যে পরিবর্তন এসেছে সেটি জার্মান ভাষাভাষী দেশগুলোর বাইরের মানুষ যে জানবেনই, বিষয়টা তেমন নয়৷

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ