চলতি বছরে নয়, ২০২৭ সালের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
- আপডেট সময় : ০১:০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৭ বার পড়া হয়েছে
চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, আগামী বছরের শুরু থেকে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ ও তফসিল নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদ, আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি বিবেচনায় নিয়ে ভোট আয়োজন করা হবে।
২০২৭ সালের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
মীর শাহে আলম বলেন, চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং আগামী বছরের শুরু থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আলাদা সময়ে আয়োজন করা হতে পারে। কোন নির্বাচন আগে হবে এবং কোনটি পরে হবে, তা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তবে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ভোটের তফসিল ও তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন
আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। বিপুলসংখ্যক ইউনিয়নে ভোট আয়োজনের কারণে নির্বাচন কয়েক ধাপে হতে পারে।
এ জন্য ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত, নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচনী সামগ্রী সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। এসব কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৬ হাজার কোটি টাকা
পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
নির্বাচনী সামগ্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় হতে পারে।
৬ হাজার ৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল
ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উৎপাদন হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ মেগাওয়াট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে। বাকি ১৫০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে এসব সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও তৈরি হতে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন এবং সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন—দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক সমন্বয় ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।


























