চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ‘জো বাইডেন’

0

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রাণীটির নাম জো বাইডেন। আকারে ছোট আর বয়সে নবীন হলেও চিড়িয়াখানার ভেতরে এই বাঘ শাবকটির দাপট বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের মতোই। তবে মা তাকে গ্রহণ না করায় মানুষের আদর-যত্নে বড় হয়েছে সে। তাই বাঘের হিংস্রতা বদলে মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকাতেই তার আনন্দ। এ বিষয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, মানুষের সংস্পর্শ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে তার ভেতরে বাঘের রাগ জন্মানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে যখন বিশ্ব টালমাটাল ঠিক তখনই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বাঘিনী জয়ার খাঁচা আলো করে জন্ম নেয় তিনটি বাঘ শাবক। কিন্তু জন্মের পরই বাচ্চাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তার মা। এতে দুটি শাবকের মৃত্যু হলে বাকিটাকে খাচা থেকে বের করে আনে কর্তৃপক্ষ। সদ্যজাত বাঘ শাবকটিকে বাঁচিয়ে তোলাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায় তাদের কাছে। কখনো ছাগলের দুধ আবার কখনো শিশুখাদ্য খাইয়ে পরম মমতায় শাবকটিকে বাঁচিয়ে তোলেন চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ। শাবকটির নামও রাখা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নামানুসারে।

দেখতে দেখতে বেশ বড় হয়ে উঠেছে জো-বাইডেন। তাই খাচায় ঢোকানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে অন্য বাঘের খাচার পাশে তার জন্য আলাদা একটি খাচাও প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু খাঁচায় থাকতে মোটেই রাজি নয় বাইডেন। চিড়িয়াখানার মুক্ত পরিবেশে মানুষের সাথে খুনসুটি আর দুষ্টুমিতেই তার আনন্দ। কিন্তু নিয়ম মেনে এমাস পড়েই তাকে স্থায়ীভাবে খাঁচায় বন্দী করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

আর চিড়িয়াখানা পরিচালনা পরিষদের সদস্য সচিব বলছেন, করোনার কারণে চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের কারণে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে জো-বাইডেন। চিড়য়াখানা খুললে দর্শনার্থির চাহিদা মেটাতে পুরো চিড়িয়াখানাটিকেই বদলে ফেলার কাজ চলছে।

জো-বাইডেনসহ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এখন বাঘের সংখ্যা ৬টি। এর আগে ২০১৮ সালে বিরল প্রজাতির সাদা বাঘসহ আরো দুটি বাঘ শাবকের জন্ম হয় এই চিড়িয়াখানায়।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন