কুমিল্লায় বাস খাদে পড়ে হেলপার নিহত, আহত ৫ যাত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬০২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার বরুড়ায় বলাকা পরিবহনের একটি বাস খাদে পড়ে আতিকুল্লাহ সবুজ (২২) নামে এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বাসের পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার দেওড়া ফকিরা মোকাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিহত আতিকুল্লাহ সবুজ বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের হাজারপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তবে দুর্ঘটনায় আহত পাঁচ যাত্রীর পরিচয় ও তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
স্টিয়ারিং লক হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় বাস
বাসটির চালক ও মালিক মনির হোসেন জানিয়েছেন, গাড়ির স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় তিনি নিজেই বাসটি চালাচ্ছিলেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের হেলপার আতিকুল্লাহ সবুজ নিহত হন এবং পাঁচ যাত্রী আহত হন।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে চালক স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়াকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আহত পাঁচ যাত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা
দুর্ঘটনায় আহত পাঁচ যাত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দুর্ঘটনায় বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুর্ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
বাস দুর্ঘটনায় হেলপার আতিকুল্লাহ সবুজের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতা আবদুল জলিল।
তিনি জানান, নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বলাকা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও পরিবারটিকে অতিরিক্ত আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
হঠাৎ উপার্জনক্ষম পরিবারের সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা পরিবারটির তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
তবে বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কত টাকা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ জানানো হয়নি।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় বাসের হেলপার নিহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মরদেহসহ বাসটি থানায় নিয়ে আসা হবে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলোও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।
বাস দুর্ঘটনায় নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায়
কুমিল্লার বরুড়ায় এ দুর্ঘটনায় একজনের প্রাণহানি ও পাঁচজনের আহত হওয়ার ঘটনা সড়ক পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
বিশেষ করে বাসের স্টিয়ারিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গাড়ির ফিটনেস, যান্ত্রিক সক্ষমতা এবং নিরাপদে চলাচলের উপযোগিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় নিহত হেলপারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষা রয়েছে। তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়দায়িত্ব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















