কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রোবট জব্দ, তদন্তে জার্মান পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৫:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
জার্মানির কোলোন শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একটি রোবট জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী এক সঙ্গীর সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, ঘটনার সময় তাঁরা রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। তবে রোবটটির নড়াচড়া ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর বিবিসির।
কোলোন শহরের কেন্দ্রের কাছে ঘটনা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কাছাকাছি কোলোন শহরের কেন্দ্রের কাছে একটি ফাস্টফুডের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ১৬ বছর বয়সী কিশোরীটি তার বন্ধুদের সঙ্গে অবস্থান করছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১২০ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি লাল ও সোনালি রঙের রোবট পেছন দিক থেকে কিশোরীটির কাছে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে রোবটটি তার নিতম্বে হাত দেয় এবং শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার মতো নড়াচড়া করে। এতে কিশোরীটি চিৎকার করে সরে যায়।
ঘটনার পর জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ বিষয়টি তদন্তে নামে।
রোবটের মালিক ও তাঁর সঙ্গীকে খুঁজে পায় পুলিশ
নর্থ রাইন-ভেস্টফালিয়া পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে এক ব্লক দূরে রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী এক সঙ্গীকে খুঁজে পাওয়া যায়।
পুলিশের সন্দেহ, ওই দুই ব্যক্তি ঘটনার সময় রোবটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে থাকতে পারেন। পাশাপাশি তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন এবং এ নিয়ে মন্তব্যও করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, রোবটটির মালিক সেটিকে একটি গাড়ির পেছনে রেখেছিলেন। পরে সেখান থেকে রোবটটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে রোবটটির পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
রোবটের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল কি না, তদন্ত
ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রোবটটি নিজস্ব প্রোগ্রাম অনুযায়ী চলছিল, নাকি কেউ দূর থেকে সেটির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
পুলিশের প্রকাশিত একটি ছবিতে রোবটটির গায়ে কালো গোঁফ, সোনালি রঙের চেইন ও সাদা ভেস্ট দেখা গেছে। তবে রোবটটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং ঘটনার সময় সেটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় রোবটটির মালিক ও তাঁর সঙ্গীর ভূমিকা নির্ধারণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য নিয়ে পুলিশের সতর্কতা
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক করে পুলিশ ফেসবুকে দেওয়া এক পরবর্তী পোস্টে জানায়, ঘটনাটি নিয়ে করা কিছু মন্তব্য সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে এসব মন্তব্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
পুলিশের এই সতর্কবার্তা থেকে বোঝা যায়, মূল ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত মন্তব্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কোলোনের এ ঘটনা রোবটের ব্যবহার, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমক্ষে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে অভিযুক্তদের ভূমিকা ও রোবটটির কার্যক্রম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।


























