করোনা আতঙ্কে টানা ৬ মাসে এগিয়ে গেছে ক্ষুদ্র পরিসরের ঘরোয়া উদ্যোক্তারা

0

করোনা আতঙ্কে টানা ৬ মাসেরও বেশী সময় গোটা পৃথিবী থমকে দাঁড়ালেও এগিয়ে গেছে ক্ষুদ্র পরিসরের ঘরোয়া উদ্যোক্তারা। এতে সবচে’ বেশী লাভবান হয়েছেন উদ্যোগী নারীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে স্বল্প বিনিয়োগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছেন তারা। নারী উদ্যোক্তারা জানান, সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী আর পরিবারের সমর্থন পেলে দেশের প্রতিটি ঘরই হয়ে উঠতে পারে ছোট-খাটো ইন্ডাস্ট্রি।

চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকার গৃহিনী ফারজানা তাসনিম। তিন বছর আগে সিঙারা, সমুচা, রোল, চিকেন ফ্রাইসহ ঘরে তৈরী নানান খাদ্যপণ্য দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। শুরুতে আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে তার ব্যবসা সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন পরিধি বেড়েছে অনেক। করোনাকালে যুক্ত হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কাস্টমারের চাহিদা মেটাতে বার্থ-ডেসহ বিভিন্ন ধরনের কেক, বিস্কুট ইত্যাদি বানাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের খাঁটি মসলাও যুক্ত করেছেন ব্যবসা সম্প্রসারণে। বাজার থেকে আস্ত মসলা কিনে পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে আলাদাভাবে প্রক্রিয়াজাত করার পর বাহারী নামে প্যাকেট করে বিক্রি করছেন।

উদ্যোগী আরেক নারীর নাম শিরীন সুলতানা অরুণা। রাঙ্গামাটির বনরূপা বাজারে একটি বুটিক হাউজের দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন ২০০৮ সালে। কিন্তু করোনার কারণে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পড়েন দুশ্চিন্তায়। এরই মাঝে বাজার থেকে কিছু কাঁচা কাজুবাদাম কিনে প্রক্রিয়াজাত করে অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ নেন। এতে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পান তিনি। ৫ মাসে বিক্রি করেছেন ৫ লাখ টাকারও বেশী। এখন তার বাড়িতেই কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত করার ছোটখাটো কারখানা। দুর্গম পাহাড়ে গিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই নিজ হাতে বাদাম সংগ্রহ করেন অদম্য এই নারী উদ্যোক্তা।

এই সাফল্যের পথও সুগম ছিলো না একেবারে। সমাজের বাঁকাচোখ তাড়া করেছে তাদেরও। তবে পরিবারের সদস্যরা সহযোগী হওয়ায় কাটিয়ে উঠেছেন সব প্রতিবন্ধকতা।

ক’বছর আগেও দেশের সমাজ ব্যবস্থাই ছিলো একজন নারী উদ্যোক্তার জন্য প্রধান বাধা। কিন্তু সময় পাল্টেছে– বাস্তবতা এখন ভিন্ন। ১০ বছর আগের অর্থনীতির সঙ্গে এখনকার অর্থনীতির হিসেবও আলাদা। আর তাই একজন নারীও যে পারিবারিক দায়িত্ববোধের সাথে তার মেধা ও নিজস্ব সত্ত্বাকে এই সমাজে সফলভাবে পরিচিতি করাতে সক্ষম, তারই প্রমাণ ফারজানা তাসনিম বা শিরীন সুলতানা অরুণা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন