ইরান ও হুতি হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘গোপনে’ সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬১ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত নিজেদের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে ‘গোপনে’ সৈন্য সরাতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি এবং ইরানের সরাসরি সামরিক হুমকির মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সৌদি আরবসহ ওই অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ থেকে কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
সেনা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট ও নতুন হামলার গুঞ্জন
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পমেয়াদি তবে শক্তিশালী সামরিক আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তরের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপে দুই দেশের যৌথ হামলার পূর্বপ্রস্তুতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কাতার, জর্ডান এবং কুয়েত থেকে মার্কিন সৈন্যদের সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র পুনঃমোতায়েন করা হচ্ছে। তবে এয়ার ডিফেন্স বা আকাশ প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সীমিত কর্মী ঘাঁটিগুলোতে রেখে দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক হামলার পূর্বাভাস হিসেবে পেন্টাগন একই উপায়ে তাদের সেনাদের সরিয়ে নিয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে নতুন হামলার একাধিক বিকল্প প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পেশ করেছেন বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। এই তালিকায় রয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেশম ও খার্গ দ্বীপ।
মার্কিন সেন্টকমের বক্তব্য:
সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য না করে জানান, ‘যুদ্ধ প্রস্তুতি সর্বোত্তম পর্যায়ে রাখা এবং কর্মী ও মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় বাহিনীকে নিয়মিতভাবে পুনঃমোতায়েন করা হয়।’
ট্রাভেল অ্যালার্ট ও কূটনৈতিক কর্মীদের প্রত্যাহার
সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে নাগরিকদের ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে এসব দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
ইতোমধ্যে হুতি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মারাত্মক ঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে কর্মরত অ-জরুরি মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ড্রোন হামলায় এক মার্কিন নাগরিকসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত আসে।
তবে বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও আমিরাত থেকে কূটনীতিক সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন উঠলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগোট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) জানান, কর্মী প্রত্যাহারের এই আদেশ শুধু সৌদি আরবের জন্যই প্রযোজ্য। অন্যান্য কিছু দূতাবাসে জনবল সীমিত রাখা হলেও তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি।






















