০৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৮৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানে সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও হামলার নির্দেশ দিলে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামের এই শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে ইরানে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অভিযানে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’

জিবিইউ-৪৩/বি বোমাটি ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম শক্তিশালী প্রচলিত বোমা। বিশাল এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতার কারণে অস্ত্রটি বিশেষভাবে আলোচিত।

মার্কিন সামরিক বাহিনী সাধারণত সম্ভাব্য অভিযানের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের সামনে বিভিন্ন মাত্রার সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্যে সীমিত আক্রমণ থেকে শুরু করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনাও থাকতে পারে।

সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে বড় বোমার প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের অস্ত্রের মধ্যে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ অন্যতম।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসে কতটা কার্যকর?

তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ভূগর্ভে অবস্থিত এবং শক্ত পাথরের স্তরে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার সক্ষমতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিপিএস-নির্দেশিত এই বোমা বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। তবে ইরানের পিকাক্স পর্বত এলাকার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে। ধারণা করা হয়, এসব স্থাপনার কিছু অংশ গ্রানাইট পাথরের পুরু স্তরের নিচে সুরক্ষিত।

এ ছাড়া ইরানের অন্যান্য ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষেত্রেও বোমাটির কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে শুধু এই অস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনায় প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসব আলোচনায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাত্রা এবং সম্ভাব্য অভিযানের কৌশল গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা কেবল সামরিক উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং দেশটির নেতৃত্বকে সতর্ক করার জন্য অস্ত্রটির সম্ভাব্য ব্যবহারকে মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে ওয়াশিংটন।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বোমাটি ব্যবহারের বিষয়টি সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার অংশ। ট্রাম্প চূড়ান্তভাবে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না এবং দিলে কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

ইরানে নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ নতুন মাত্রা পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সূত্র: সিএনএন, আল আরাবিয়া।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর

আপডেট সময় : ০১:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও হামলার নির্দেশ দিলে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামের এই শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে ইরানে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অভিযানে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’

জিবিইউ-৪৩/বি বোমাটি ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম শক্তিশালী প্রচলিত বোমা। বিশাল এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতার কারণে অস্ত্রটি বিশেষভাবে আলোচিত।

মার্কিন সামরিক বাহিনী সাধারণত সম্ভাব্য অভিযানের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের সামনে বিভিন্ন মাত্রার সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্যে সীমিত আক্রমণ থেকে শুরু করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনাও থাকতে পারে।

সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে বড় বোমার প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের অস্ত্রের মধ্যে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ অন্যতম।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসে কতটা কার্যকর?

তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ভূগর্ভে অবস্থিত এবং শক্ত পাথরের স্তরে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার সক্ষমতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিপিএস-নির্দেশিত এই বোমা বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। তবে ইরানের পিকাক্স পর্বত এলাকার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে। ধারণা করা হয়, এসব স্থাপনার কিছু অংশ গ্রানাইট পাথরের পুরু স্তরের নিচে সুরক্ষিত।

এ ছাড়া ইরানের অন্যান্য ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষেত্রেও বোমাটির কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে শুধু এই অস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনায় প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসব আলোচনায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাত্রা এবং সম্ভাব্য অভিযানের কৌশল গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা কেবল সামরিক উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং দেশটির নেতৃত্বকে সতর্ক করার জন্য অস্ত্রটির সম্ভাব্য ব্যবহারকে মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে ওয়াশিংটন।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বোমাটি ব্যবহারের বিষয়টি সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার অংশ। ট্রাম্প চূড়ান্তভাবে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না এবং দিলে কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

ইরানে নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ নতুন মাত্রা পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সূত্র: সিএনএন, আল আরাবিয়া।