০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী চায় বিএনপি, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বিএনপি। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগ্যতা ও তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। তবে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করাই এখন বিএনপির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একক প্রার্থী নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন প্রার্থী নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের নেতাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ একক প্রার্থীর বাইরে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিজভী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থী থাকেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যারা গায়ের জোরে কিংবা দলের শৃঙ্খলা না মেনে প্রার্থী হতে চাইবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা

বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে শুধু দলীয় পদ-পদবি বিবেচনা করা হবে না। বরং সংশ্লিষ্ট এলাকায় কার জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা কেমন এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

রুহুল কবির রিজভী জানান, যে প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। এ ক্ষেত্রে দলের জন্য তাঁর ত্যাগ, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তবে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ হলেই কাউকে মনোনয়নের জন্য এগিয়ে রাখা হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি

প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। স্থানীয় পর্যায়ে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন, তাঁদের মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নেতা সাংগঠনিকভাবে দক্ষ হলেও তাঁর পুরো এলাকায় জনপ্রিয়তা নাও থাকতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে না থেকেও এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হতে পারেন। এমনকি কেউ দলের সাধারণ সদস্য, সহসম্পাদক কিংবা সক্রিয় সমর্থক হলেও তাঁর নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা থাকলে তাঁকে সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

অর্থাৎ, প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় পদ-পদবির পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা, জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী যোগ্যতার সমন্বয় দেখতে চায় বিএনপি।

দলীয় ঐক্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন। এ কারণে শুরু থেকেই একক প্রার্থী নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং নেতাকর্মীদের নিজস্ব বলয় থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল পর্যায়ে তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামত ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কঠোর সাংগঠনিক অবস্থানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় ঐক্য কতটা ধরে রাখতে পারে বিএনপি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী চায় বিএনপি, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

আপডেট সময় : ০২:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বিএনপি। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগ্যতা ও তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। তবে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করাই এখন বিএনপির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একক প্রার্থী নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন প্রার্থী নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের নেতাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ একক প্রার্থীর বাইরে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিজভী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থী থাকেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যারা গায়ের জোরে কিংবা দলের শৃঙ্খলা না মেনে প্রার্থী হতে চাইবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা

বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে শুধু দলীয় পদ-পদবি বিবেচনা করা হবে না। বরং সংশ্লিষ্ট এলাকায় কার জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা কেমন এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

রুহুল কবির রিজভী জানান, যে প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। এ ক্ষেত্রে দলের জন্য তাঁর ত্যাগ, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তবে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ হলেই কাউকে মনোনয়নের জন্য এগিয়ে রাখা হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি

প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। স্থানীয় পর্যায়ে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন, তাঁদের মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নেতা সাংগঠনিকভাবে দক্ষ হলেও তাঁর পুরো এলাকায় জনপ্রিয়তা নাও থাকতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে না থেকেও এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হতে পারেন। এমনকি কেউ দলের সাধারণ সদস্য, সহসম্পাদক কিংবা সক্রিয় সমর্থক হলেও তাঁর নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা থাকলে তাঁকে সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

অর্থাৎ, প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় পদ-পদবির পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা, জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী যোগ্যতার সমন্বয় দেখতে চায় বিএনপি।

দলীয় ঐক্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন। এ কারণে শুরু থেকেই একক প্রার্থী নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং নেতাকর্মীদের নিজস্ব বলয় থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল পর্যায়ে তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামত ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কঠোর সাংগঠনিক অবস্থানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় ঐক্য কতটা ধরে রাখতে পারে বিএনপি।