০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন, হোয়াটসঅ্যাপে বেচাকেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬১৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার লালমাইয়ে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্র তৈরির ভিডিও প্রকাশ ও বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। পরে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে চলত অস্ত্র কেনাবেচার দরদাম ও তথ্য আদান-প্রদান। এ ঘটনায় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ কারখানাটির মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত আবু মোহাম্মদ তৌকির নেওয়াজ আসিফকে আটক করা হয়েছে।

ফেসবুকে অস্ত্র তৈরির ভিডিও, হোয়াটসঅ্যাপে বেচাকেনা

অস্ত্র তৈরির কারখানাটির কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে সামনে আসে। ফেসবুকে প্রকাশ্যে অস্ত্র তৈরির ভিডিও দেওয়া হতো। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হতো।

বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চলত পরবর্তী কার্যক্রম। সেখানে অস্ত্র কেনাবেচা, দরদাম এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হতো। এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতা খোঁজা ও অস্ত্র বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

লালমাইয়ে অভিযান, আটক মূলহোতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র ধরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ইছাপুর গ্রামে অভিযান চালায় এসআরবি-কুমিল্লা। অভিযানে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় আবু মোহাম্মদ তৌকির নেওয়াজ আসিফকে আটক করা হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া এসআরবি-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তির অস্ত্রের প্রতি একধরনের আকর্ষণ ছিল। এ কারণে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অস্ত্র কেনার বিষয়ে কথাবার্তা বলতেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর অনুসন্ধানে কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য উঠে এসেছে। এসব অস্ত্র কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে পৌঁছে যেত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা

গ্রামের ভেতরে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের অবৈধ অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

লালমাই উপজেলার ইছাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তাঁদের গ্রামেরও মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। অন্যরা যেন এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতন হন এবং মানুষ যেন কিশোর গ্যাংয়ের কবল থেকে মুক্তি পায়, সে প্রত্যাশা করেন তিনি।

অন্য কেউ জড়িত কি না, চলছে অনুসন্ধান

আটক আসিফের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা বাহিনী। অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এসআরবি। তদন্তে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্রের প্রচার ও বেচাকেনার এ ঘটনা অনলাইন অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের হাতে অবৈধ অস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন, হোয়াটসঅ্যাপে বেচাকেনা

আপডেট সময় : ১২:৪২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্র তৈরির ভিডিও প্রকাশ ও বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। পরে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে চলত অস্ত্র কেনাবেচার দরদাম ও তথ্য আদান-প্রদান। এ ঘটনায় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ কারখানাটির মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত আবু মোহাম্মদ তৌকির নেওয়াজ আসিফকে আটক করা হয়েছে।

ফেসবুকে অস্ত্র তৈরির ভিডিও, হোয়াটসঅ্যাপে বেচাকেনা

অস্ত্র তৈরির কারখানাটির কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে সামনে আসে। ফেসবুকে প্রকাশ্যে অস্ত্র তৈরির ভিডিও দেওয়া হতো। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হতো।

বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চলত পরবর্তী কার্যক্রম। সেখানে অস্ত্র কেনাবেচা, দরদাম এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হতো। এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতা খোঁজা ও অস্ত্র বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

লালমাইয়ে অভিযান, আটক মূলহোতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র ধরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ইছাপুর গ্রামে অভিযান চালায় এসআরবি-কুমিল্লা। অভিযানে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় আবু মোহাম্মদ তৌকির নেওয়াজ আসিফকে আটক করা হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া এসআরবি-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তির অস্ত্রের প্রতি একধরনের আকর্ষণ ছিল। এ কারণে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অস্ত্র কেনার বিষয়ে কথাবার্তা বলতেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর অনুসন্ধানে কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য উঠে এসেছে। এসব অস্ত্র কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে পৌঁছে যেত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা

গ্রামের ভেতরে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের অবৈধ অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

লালমাই উপজেলার ইছাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তাঁদের গ্রামেরও মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। অন্যরা যেন এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতন হন এবং মানুষ যেন কিশোর গ্যাংয়ের কবল থেকে মুক্তি পায়, সে প্রত্যাশা করেন তিনি।

অন্য কেউ জড়িত কি না, চলছে অনুসন্ধান

আটক আসিফের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা বাহিনী। অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এসআরবি। তদন্তে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্রের প্রচার ও বেচাকেনার এ ঘটনা অনলাইন অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের হাতে অবৈধ অস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।