অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে রাজধানীতে মশার ঘনত্ব সবচে’ বেশি

0

অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে রাজধানীতে মশার ঘনত্ব সবচে’ বেশি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। মশা নিধনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে আগামী দশ দিনের মধ্যে মশার যন্ত্রনায় নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠবে বলেও সতর্ক করেন তারা। ডেঙ্গু রোগের জীবানুবাহী এডিস মশা মানুষের বাড়ি ঘরের আশপাশে জন্মালেও এখনকার মশাগুলো কিউলেক্স জাতের। তাই এসব মশা বিভিন্ন নর্দমা-খাল-বিল ও পরিত্যক্ত জলাশয়ে জন্মায় বলে এগুলো নিধনে সিটি কর্পোরেশনের ওষধ ছিটানোর বিকল্প নেই বলেও মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৯ সালের এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। এডিস মশা বাহিত এই মরণঘাতী ডেঙ্গু প্রথমে রাজধানীতে এবং পরবর্তীকালে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। গেল বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবেই দেড়’শো মানুষের মৃত্যু হয়। তবে বেসরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি। আর সারাদেশে এই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়। শুধু মৃত্যু ও আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ডই নয়। এখন থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীসহ সারাদেশে বছরব্যাপী মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করার পরামর্শ আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার।

শুধু এডিস মশাই নয়, রাজধানীতে গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়েছে কিউলেক্স মশার উৎপাত। এসব মশা নিয়ন্ত্রণে এখনই উদ্যোগ না নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে মশার ঘনত্ব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কিটতত্ববিদ কবিরুল বাশারের। ডেঙ্গু মৌসুমের মতো শুধু লোক দেখানো কার্যক্রম আর চটকদার কথা বলে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, জানিয়ে এই বিষয়ে আরো গভীরভাবে নজরদারি ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন