সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু মেলেনি, দাবি শিল্পমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৫:২০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলে কোনো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) খোলাবাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করে এ ফল পেয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব ঢাকায় বিশ্ব মান দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
১৯৩টি নমুনা পরীক্ষার কথা জানাল বিএসটিআই
সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণার বরাত দিয়ে সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএসটিআইয়ের নিজস্ব অ্যাক্রেডিটেড পরীক্ষাগারে খোলাবাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯৩টি ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় কোনো নমুনায় ভারী ধাতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
শিল্পমন্ত্রী জানান, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ বন্ধে বিএসটিআইয়ের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিএসটিআইয়ের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এমনভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের সব এলাকায় পণ্যের মান যাচাই ও তদারকি নিশ্চিত করা যায়। শুধু নজরদারি বাড়ালেই হবে না, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।
‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের মান বাড়ানোর তাগিদ
‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব—সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল। এফসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।
শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন দেখে ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হওয়াই প্রতিষ্ঠানটির বড় অর্জন। দেশের পণ্যের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সরকার, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ যেন পণ্যের মান, আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক হয়ে ওঠে, সে লক্ষ্য নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে।
নকল ও ভেজাল পণ্য ঠেকাতে বিশেষ ইউনিটের প্রস্তাব
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্যের বিস্তার এবং বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অবৈধ ব্যবহার রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষায়িত এনফোর্সমেন্ট ও ইন্টেলিজেন্স ইউনিট চালু করা প্রয়োজন।
তার মতে, এ ধরনের ইউনিট সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, মান শুধু একটি কাগজের সনদ নয়; এটি নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের আস্থার চুক্তি। সেই দায়িত্ব পালনে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে।
হালাল সনদে স্বীকৃতি পেল বিএসটিআই
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) কাছ থেকে হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করে বিএসটিআই। শিল্পমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের হাতে সনদ তুলে দেন বিএবির মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।
বিএসটিআইয়ের ন্যাশনাল হালাল ল্যাবরেটরির এই স্বীকৃতির ফলে হালাল পণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং সনদ প্রদানের ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করতেও এ স্বীকৃতি ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিএসটিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, সবুজ প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে জাতীয় মান প্রণয়ন ও পরীক্ষার সুবিধা গড়ে তোলা জরুরি।
অন্যদিকে, এফসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বিএসটিআইয়ের হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন বাংলাদেশের পণ্যের জন্য বৈশ্বিক হালাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াবে। তবে নকল ও ভেজাল পণ্য রোধে বিএসটিআইকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা, ভেজাল প্রতিরোধ, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে দেশের বাজারে ভোক্তাদের আস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বিশ্ব মান দিবসের এ আলোচনা সভায়।

























