সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয়ের জমি ক্রোক, ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের নামে থাকা জমি ক্রোক এবং ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম গত ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
আড়াই কোটির বেশি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ দুই কোটি ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৮২৬ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার নামে থাকা ১৪টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে মোট পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ১৫ হাজার ৫৯০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো সময় তার নামে থাকা সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে সরিয়ে ফেলতে পারেন। এতে মামলার বিচার শেষে সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ ব্যাহত হতে পারে।
ঢাকায় জমি ক্রোকের আবেদন
আবেদনে ঢাকার নন্দীপাড়া-৫ মৌজায় ধনঞ্জয় কুমার দাসের নামে থাকা ০.৭৯৬ শতাংশ জমি ক্রোক করার আবেদন জানানো হয়। দুদকের যুক্তি, অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আদালতের আদেশ কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ
জমি ক্রোকের পাশাপাশি সিটি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিস ও বনানী শাখা এবং এনসিসি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়। এসব হিসাবে দেশি ও বিদেশি মুদ্রায় জমা অর্থের বিবরণও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জমি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সম্পদ ও হিসাবের অর্থ স্থানান্তর বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়গুলো দুদকের আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।






















