সাংবিধানিক পথে ফেরা ও বিশ্বাসযোগ্য ভোট আয়োজনই অন্তর্বর্তী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৮৪৮ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশ সাংবিধানিক পথে ফিরবে শুধু এমনটাই নয়; বরং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার ক্ষমতায় বসবে। ফলে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা- এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভোটের পর সরকারকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে হবে।
পোশাক শিল্প নির্ভর ধীরগতির অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সামাজিক চাপ সামাল দিতে হবে নতুন সরকারকে। এছাড়া রয়েছে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ।
দেশের বাইরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলার মতো বিষয়গুলোও সামলে নিতে হবে আগামীর সরকারকে।
এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, দেশের রাজনৈতিক শক্তির একটি আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। দলটির সারাদেশে সাংগঠনিক বিস্তৃতি ও ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। অনেকের ধারণা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি ও অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত।
অবশ্য সাম্প্রতিক দু’টি ঘটনা বিএনপির পক্ষে যেতে পারে। ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসন শেষে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু। এই দু’টি ঘটনায় বিপুল জনসমাগম তাদের জনপ্রিয়তা প্রকাশ পেয়েছে।
অপরদিকে, নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল জামায়াতে ইসলামী। শেখ হাসিনার শাসনামলে দলটি ব্যাপক দমন-পীড়নের শিকার হয়। তবে গণ–অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়েছে জামায়াত। এই জোট গঠনে এনসিপির ভেতরে বিতর্ক সৃষ্টি এবং অনেক নেতা দল ছেড়েছেন।
স্থিতিশীল অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য এবং ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন অন্তর্বর্তী সরকারের বড় অর্জন। তবে মব ভায়োলেন্স বিশেষ করে দল বেঁধে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা বেড়েছে। এতে জনগণের একাংশের ধারণা, সংস্কারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। পাশাপাশি হিযবুত তাহরিরের মতো উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবাদ নজরদারিতে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
নির্বাচিত সরকারকে রাজনৈতিক সমঝোতার কঠিন প্রশ্নও মোকাবিলা করতে হবে। ২০২৪ সালের সহিংসতার জন্য অনুশোচনা ছাড়া রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরা বিতর্কিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় পাঁচ বছরের মেয়াদপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকার- এসব জটিল সংকট মোকাবিলায় ভালো অবস্থানে থাকবে।

















