০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর, গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৬২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেছেন কয়েকজন। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. সাইমন। তিনি পল্লবী থানার কনস্টেবল। হামলার পর তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দলছুট অবস্থায় পেয়ে পুলিশ সদস্যকে মারধর

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরেন। পরে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। এ সময় আশপাশের কয়েকজন তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, মিরপুর-১১ এলাকা থেকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হলে তারা কালশীর দিকে সরে যান। এ সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশের কয়েকজন সদস্য মিরপুর-১১-এর দিকে যাচ্ছিলেন।

পথে দলছুট অবস্থায় কনস্টেবল সাইমনকে পেয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইটপাটকেলের আঘাতে আহত আরও চার পুলিশ সদস্য

ওসি জালাল উদ্দিন আরও জানান, মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

সকাল থেকেই সড়কে পোশাকশ্রমিকদের অবস্থান

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে অবস্থান নেন কয়েক হাজার শ্রমিক। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তারা সড়কে নামলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় অনেক শ্রমিকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েন। একই সঙ্গে ওই এলাকার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর, গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময় : ০৩:০৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেছেন কয়েকজন। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. সাইমন। তিনি পল্লবী থানার কনস্টেবল। হামলার পর তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দলছুট অবস্থায় পেয়ে পুলিশ সদস্যকে মারধর

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরেন। পরে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। এ সময় আশপাশের কয়েকজন তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, মিরপুর-১১ এলাকা থেকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হলে তারা কালশীর দিকে সরে যান। এ সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশের কয়েকজন সদস্য মিরপুর-১১-এর দিকে যাচ্ছিলেন।

পথে দলছুট অবস্থায় কনস্টেবল সাইমনকে পেয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইটপাটকেলের আঘাতে আহত আরও চার পুলিশ সদস্য

ওসি জালাল উদ্দিন আরও জানান, মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

সকাল থেকেই সড়কে পোশাকশ্রমিকদের অবস্থান

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে অবস্থান নেন কয়েক হাজার শ্রমিক। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তারা সড়কে নামলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় অনেক শ্রমিকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েন। একই সঙ্গে ওই এলাকার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।