ব্রহ্মপুত্র দিয়ে ঢাকায় আসছে আসামের মিথানল
- আপডেট সময় : ০৩:২২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ভারতের আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদীর অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আসামের বগীবিল থেকে ঢাকায় মিথানল পরিবহনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগে নদীপথের ব্যবহার নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে।
বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের জন্য আসামের বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (আইডব্লিউটি) টার্মিনাল প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, আধুনিক জেটি ও গুদামঘরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি ও কারিগরি সহায়তার জন্য একটি লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরির কাজও চলছে।
দুই জাহাজে আসবে ১ হাজার ৮০ টন মিথানল
এপিএলের মিথানল পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে ২৭টি কনটেইনার থাকবে। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল বহন করা যাবে।
ফলে একটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন সম্ভব হবে। বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে জাহাজগুলোর আনুমানিক সাত দিন সময় লাগবে।
৩০ বছর অচল থাকার পর সচল দুই জাহাজ
এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানান, অভ্যন্তরীণ নৌপথ পরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে এপিএল জাহাজ দুটি লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে আনে। সেখানে সম্পূর্ণ সংস্কার ও মেরামতের পর এগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের উপযোগী করা হয়।
সংস্কার করা এই দুই জাহাজই এখন বগীবিল থেকে ঢাকা পর্যন্ত মিথানল পরিবহনে ব্যবহার করা হবে।
বাড়বে উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্যের বাজার
সড়ক ও রেলপথের তুলনায় নদীপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। সংশ্লিষ্টদের মতে, বগীবিল টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শুধু মিথানল নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সম্ভাব্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের (বিসিপিএল) উৎপাদিত পণ্য, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, কয়লা ও চা।
এ ছাড়া আসামের জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত কৃষিপণ্য কাজী লেবু বা অসমীয়া লেবু, ভূত জলোকিয়া এবং গোলমরিচও এই নৌপথের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ পেতে পারে।
ফলে ব্রহ্মপুত্রের এই নৌপথ শুধু মিথানল পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে এটি ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করছে।























