ফরিদপুরে ইজিবাইক চালককে হত্যার চার বছর পর আসামি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৮৬ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরে চেতনানাশক প্রয়োগ করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় চালক বিশ্বনাথ সরকারকে হত্যার চার বছর পর মুরাদ শেখ (৩৭) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ দুই বছর বিশ্বস্ত গুপ্তচরের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ছাড়াই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনের মধ্যে দুজন আগে গ্রেপ্তার হলেও বাকি তিনজন এখনো পলাতক।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়সংলগ্ন ফলপট্টি এলাকা থেকে মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে।
ইজিবাইক ভাড়া করে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই জীবিকার তাগিদে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ইব্রাহীমদি গ্রামের বিশ্বনাথ সরকার। ওই দিন রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তিনি অচেতন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে পড়ে আছেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের ছেলে শ্রী রবি কুমার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ১৯ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই। দীর্ঘদিন তদন্ত করেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব না হওয়ায় মামলাটি ক্লুলেস হিসেবে তদন্ত চলতে থাকে।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন পাঁচজন মিলে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরা ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার পুরোনো বাস টার্মিনাল থেকে ২০০ টাকায় বিশ্বনাথের ইজিবাইক ভাড়া করেন। নগরকান্দার তালমা মোড়ে যাওয়ার কথা বলে তাঁরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যান।
একপর্যায়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে আসামিরা রুমালে চেতনানাশক ওষুধ লাগিয়ে বিশ্বনাথের নাক-মুখ চেপে ধরেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
যেভাবে গ্রেপ্তার হন মুরাদ
পিবিআই জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটির ক্রেতা কামাল মিয়াকে ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডা বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়। পরে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে সুমন আহমেদকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
কামাল ও সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুরাদসহ আরও চারজনের নাম উঠে আসে। পিবিআইয়ের তথ্যমতে, ছিনতাই করা ইজিবাইকটির মূল্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন মুরাদ। পরে চার সহযোগীর প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে ইজিবাইকটি নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সেটি কামাল মিয়ার কাছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
দুই বছর আত্মগোপনে ছিলেন আসামি
পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, কামাল ও সুমন গ্রেপ্তার হওয়ার পর সতর্ক হয়ে যান মুরাদ। প্রায় দুই বছর আগে তিনি নিজ বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি শ্বশুরবাড়িতেও যেতেন না। গ্রেপ্তার এড়াতে মোবাইল ফোন ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করে দেন। ফলে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রবিউল ইসলাম বলেন, কোনো মামলার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত পিবিআই তদন্ত চালিয়ে যায়। মুরাদের পেছনে বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগ করে দীর্ঘ দুই বছর ধরে নজরদারি করা হয়। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ছাড়াই লোকমুখে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। পরে কৌশলে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর মুরাদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া কামাল ও সুমন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। বাকি তিন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক অখিল কুমার বিশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
























